সোমবার, অক্টোবর ১৪

#Breaking: এনআরএস-এ আহত ইন্টার্নের অবস্থা আশঙ্কাজনক, খবর পেতেই তুলকালাম হাসপাতাল চত্বর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব ভেঙেছিল এনআরএস-এর ইন্টার্ন পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের। মল্লিক বাজারের ইন্সটিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে ভর্তি ছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলেই হাসপাতাল থেকে খবর এসেছে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল সূত্রে খবর, খুলিতে গুরুতর চোট পেয়েছেন পরিবহ।

সতীর্থর অবনতির খবর আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এনআরএস হাসপাতালের বিক্ষোভরত ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা। মেন গেটের কাছে চলছে তুলকালাম। সাংবাদিক থেকে প্রশাসন, কিংবা কর্তৃপক্ষ কাউকেই রেয়াত করছেন না তাঁরা। স্লোগান উঠেছে, “হাসপাতালে ঢুকতে হলে আমাদের বুকের উপর দিয়ে যেতে হবে।” চিৎকারে ফেটে পড়েছেন বিক্ষোভে সামিল সকলেই।

সোমবার বিকেল থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এনআরএস হাসপাতাল চত্বর। চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ আনে এক পরিবার। তারপরেই ধুন্ধুমার বেঁধে যায় ইন্টার্ন, জুনিয়র ডাক্তার এবং রোগীর পরিবারের মধ্যে। অভিযোগ, লরি করে প্রায় ২০০ লোক আসে হাসপাতালে। ইট ছোঁড়া হয় ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তারদের দিকে। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মাথায় ইট লাগে পরিবহর। তারপর থেকেই হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ২৬ বছরের এই তরুণ।

ডোমজুরের বাসিন্দা পরিবহ দু’চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ডাক্তারি পড়তে এসেছিলেন এই শহরে। কিন্তু আচমকাই তাঁর স্বপ্নে লেগে গিয়েছে রক্তের দাগ। তাঁর সতীর্থরা বলছেন, “মৃত রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তই ছিল না ও। শুধু এই সিস্টেমের অংশ বলে কাল উন্মত্ত জনতার হাতে মার খেয়ে গেল ও। আর কত রক্ত ঝরবে বলতে পারেন! স্বপ্ন পূরণ করতে এসে আর কত মার খাবো আমরা!

এনআরএস-এ দুই ইন্টার্নের মার খাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যু জুড়ে বিক্ষোভ, অবস্থানে সামিল হয়েছেন বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা। পাশাপাশি সোমবার রাত থেকে শাট ডাউন পোস্টার লাগিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এনআরএস-এর বিক্ষোভরত ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের শরীরী ভাষা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই অবস্থান সাময়িক নয়। এই বিক্ষোভ কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি এবং আশ্বাসে উঠবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার রোগী এসে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকের অবস্থাই বেশ জটিল। বারুইপুরের বাসিন্দা সুমা প্রামাণিক গতকালই মা হয়েছেন। পরিবার জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা সংকটজনক। খাবার নিয়ে এসেও ঢুকতে পারছেন না। মেন গেটেই আটকে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না ভিতরে। কিন্তু একজন ইন্টার্নের মার খাওয়ার জন্য এতগুলো রোগীর অসুবিধে কি মেনে নেওয়া যায়, প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন রোগীর পরিবার।

কিন্তু নিরাপত্তার দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে অনড় ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা। বিক্ষোভরতদের সকলের একটাই কথা, “এর আগে রোগীদের কথা ভেবে আমরা সব প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, আন্দোলন তুলে নিয়েছি। তবে আর নয়। এ বার শেষ দেখে ছাড়ব।” শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে এনআরএস হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা। তবে রোগী এবং অ্যাম্বুলেন্সের ভিড় বাড়তে থাকায় গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ভিতরে গিয়েছেন, একজন হার্টের পেশেন্ট এবং ব্রেন স্ট্রোকের পেশেন্ট। তবে প্রকাশ্যেই বিক্ষোভরতদের বলে শোনা যায়, “যাচ্ছেন যান। কোনও পরিষেবা পাবেন না।”

Comments are closed.