শনিবার, অক্টোবর ১৯

মানবিক মুখ আসানসোল জেলা হাসপাতালের, সুস্থ করে পরিবারের হাতে তুলে দিল মানসিক প্রতিবন্ধী রুগীকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : স্থানীয় বাসিন্দারা এক মানসিক প্রতিবন্ধী রুগীকে ভর্তি করে গিয়েছিল হাসপাতালে। কোনও পরিচয় ছিল না তাঁর। সেই রুগীকে সুস্থ করে তাঁর পরিচয় জানতে পেরে পরিবারের কাছে তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের ডাক্তাররা।

গত ৫ জুলাই আসানসোল বাজার এলাকায় বছর ৩০-এর এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কথা বললে তাঁরা বুঝতে পারেন, যুবক মানসিক প্রতিবন্ধী। তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে দেন তাঁরা। ডাক্তাররা তাঁর কোনও পরিচয় জানতেন না। তারপরেও হাল ছাড়েননি তাঁরা। সাইকিয়াট্রিস্ট ডাক্তার অভিরুপ বসাক ও ডাক্তার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন।

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন যুবক। হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার ভাস্কর হাজরা তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তাঁর নাম দেবাশিস কুমার। বাবার নাম সাধন কুমার। বাড়ি পুরুলিয়া জেলার কোটশিলা থানার বড়গোলায়। সঙ্গে সঙ্গে কোটশিলা থানায় যোগাযোগ করেন ভাস্করবাবু। সেখানকার অফিসার অমিত মাহাতোকে ফোনে সব জানান। খবর পেয়ে অমিত মাহাতো সাধন কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে খবর দেন। বুধবার আসানসোল জেলা হাসপাতালে ছেলেকে আনতে আসেন সাধনবাবু।

আসানসোল জেলা হাসপাতালের আধিকারিকরা সব কাগজপত্র দেখে আসানসোল দক্ষিণ থানার অফিসারদের সামনে দেবাশিসকে বাবার হাতে তুলে দেন। ছেলেকে এ ভাবে ফিরে পেয়ে চোখের জল বাঁধ মানেনি বাবার। তিনি জানিয়েছেন, ১০-১৫ বছর বয়স থেকেই মাথায় গণ্ডগোল দেখা দেয় দেবাশিসের। পুরুলিয়া ও রাঁচির মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। বছর তিনেক আগে হিমাচল প্রদেশে চলে যায় দেবাশিস। সেখানেও পুলিশ উদ্ধার করে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়েছিল। ফের এপ্রিল মাসে বাড়ি থেকে চলে যায় দেবাশিস। অনেক খোঁজ করেও খোঁজ পাননি। অবশেষে খবর পান, আসানসোলে রয়েছে ছেলে। তাই ছেলেকে আনতে এসেছেন।

আসানসোল জেলা হাসপাতালের ডাক্তারদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধনবাবু। তিনি জানান, চাষবাস করেই সংসার চলে তাঁর। সেই করেই ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। এপ্রিল মাসে ছেলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ডাক্তারবাবুদের জন্যই ছেলেকে ফিরে পেলেন।

দেবাশিসকে বাবার হাতে তুলে দিতে পেরে খুশি আসানসোল জেলা হাসপাতালের ডাক্তাররাও। অতিরিক্ত সুপার ভাস্কর হাজরা বলেন, “ছেলেকে যে বাবার হাতে তুলে দিতে পেরেছি, পরিবারের মুখে হাসি ফটাতে পেরেছি, এটাই আমাদের পুরস্কার। ভবিষ্যতেও এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই আমরা। তবে দেবাশিসকে ডাক্তার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় যেভাবে সুস্থ করে তুলেছেন, তার জন্য ওঁর একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে দেবাশিস।”

Comments are closed.