করোনার টিকা এলেই সবচেয়ে আগে পাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, নামের তালিকা চাইল স্বাস্থ্যভবন

রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যতজন স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।  জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

১,৪৭৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা চলে এলে আগে কারা পাবে সে নিয়ে সব রাজ্যকেই প্রোটোকল তৈরি করতে বলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আজ, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, কোভিড ভ্যাকসিন সবচেয়ে আগে দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের। এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হচ্ছে রাজ্যের জেলায় জেলায়।

রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যতজন স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।  জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।  ৩০ অক্টোবরের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তারি পড়ুয়াদের নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।

করোনার টিকা কবে আসবে সে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল এতদিন। তাতে কেন্দ্র জানিয়েছিল, একুশের গোড়াতেই দেশে কোভিড ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল। একাধিক সংস্থার ভ্যাকসিন দেশের বাজারে চলে আসবে বলেই দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। এরপরে প্রশ্ন উঠেছিল, টিকা চলে আসার পরে প্রথম কাদের দেওয়া হবে। টিকার অগ্রাধিকার পাবে কারা?  এ প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র বলেছিল, গুরুত্ব বুঝেই টিকার সমবন্টন করা হবে। কাদের আগে দেওয়া হবে তার গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটিকে আগে করোনার টিকা দেওয়া হবে। তার জন্য প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে সে প্রটোকল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই টিকাকরণ করতে হবে। যে বয়সের মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তার তালিকাও তৈরি হচ্ছে। এর জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে মিলে কাজ করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই মুহূর্তে একটি ফরম্যাট তৈরি করছে যেখানে রাজ্যগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নামের তালিকা জমা দিতে হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে তার একটা রূপরেখাও জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

পেশা, বয়স ইত্যাদির ভিত্তিতে গুরুত্ব বুঝে চারটি ক্যাটেগরি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। প্রথমেই রয়েছেন ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী, ডাক্তারি পড়ুয়ারা। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে আগে। দ্বিতীয়ত, পুলিশ, প্রশাসন, মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি জনকে টিকা দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছে।  তৃতীয় ক্যাটেগরিতে রাখা রয়েছে ২৬ কোটি মানুষকে, যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। চতুর্থ ক্যাটেগরিতে থাকবে কোমবির্ডিটির রোগীরা এবং ৫০ বছরের কম লোকজন যাদের পেশার জন্য বেশি মেলামেশা করার প্রয়োজন হয়। এই চার ক্যাটেগরিতে কারা থাকবেন তাদের তালিকা তৈরি করে নভেম্বরের মাঝামাঝি জমা করতে হবে কেন্দ্রকে। এই তালিকায় যাদের রাখা হবে তাদের আধার কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়পত্র দিতে হবে রাজ্যগুলিকে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, কাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, কী পরিমাণ ডোজ বিতরণ করা হচ্ছে এবং টিকা সংরক্ষণের কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার রিপোর্ট রাখতে অনলাইন ট্রেনিং মডিউল তৈরি হচ্ছে। ‘ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ নামে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকার বিতরণ ও সংরক্ষণের সব তথ্য রেকর্ড করা থাকবে।

দেশে কোন টিকার বিতরণ কীভাবে হবে তা ঠিক করার জন্য ন্যাশনাল ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির তরফে বিশেষজ্ঞ দল ঠিক করা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ দলই ঠিক করবে কোন ভ্যাকসিনটি ব্যবহার যথার্থ হবে। এর পাশাপাশি এর বিতরণ কীভাবে হবে, টাও ঠিক করবেন এই কেন্দ্রীয় দলের বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য কেন্দ্রীয় এই বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More