এসএফআই নেতার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উত্তপ্ত দিনহাটা, ‘আক্রান্তের’ বাড়িতে বিজেপি যেতেই ফুঁসে উঠল তৃণমূল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: ফের রাজনৈতিক উত্তাপ কোচবিহারের দিনহাটায়। এবার আর শুধু তৃণমূল-বিজেপি নয়। সঙ্গে জুড়ল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের নাম। যা নিয়ে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল দিনহাটা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে।

ঘটনা কী?

দু’দিন আগে তৃণমূলের একটি দলীয় বৈঠকে যোগ দিয়ে দিনহাটার বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তৃণমূল নেতাদের সূত্রেই সেই খবর জানা গিয়েছিল। ‘একুশে ভোটে দাঁড়াব না, প্রার্থী খুঁজে নিন, দলকে সাফ জানিয়ে দিলেন উদয়ন’ শিরোনামে দ্য ওয়াল-এও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। শাসকদলের নেতাদের মারফত এও জানা গিয়েছিল, উদয়নবাবু নাকি ওই বৈঠকে বলেছেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় না থাকলে যারা চাকরি দেওয়ার নাম করে, বাড়ি করে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা কাটমানি তুলেছেন, সেই সমস্ত নেতারা বাড়িতে থাকতে পারবেন না। যে মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাবেন তার আগেই কাটমানি নেওয়া নেতাদের এবং কর্মীদের ছাল চামড়া গুটিয়ে দেবে জনগণ।”

কোচবিহারের এসএফআই নেতা তথা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শুভ্রালোক দাস এই উক্তি নিয়েই একটি ফেসবুক পোস্ট করেন বুধবার। সেই ফেসবুক পোস্টে তিনি উদয়নবাবুকে উদ্দেশ করে লেখেন, “আপনি তো ভোটে জেতা জনপ্রতিনিধি। আপনি যদি জেনেই থাকেন কারা চাকরি বা বাড়ি করে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছে, তাদের নামটা পুলিশে দিয়ে দিন।” সঙ্গে বাম ছাত্র নেতা এও লেখেন, “আপনি যদি তা না করেন, মানুষ আপনাকেও লুঠেরাদের সর্দার হিসেবে ধরে নেবে।”

অভিযোগ, এই পোস্ট করার জন্য বুধবার রাতে এসএফআই নেতার বাড়িতে তৃণমূলের লোকজন হামলা চালায়। সেই সময়ে শুভ্রালোক বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর বাবা-মাকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার সকালে শুভ্রালোকের বাড়িতে চলে যান বিজেপির নেতারা। স্থানীয় নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্তর নেতৃত্বে কয়েকজন গেরুয়া শিবিরের নেতা এসএফআই নেতার সঙ্গে দেখা করতে যান। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, তাঁরা হামলার খবর শুনে সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছেন। বিজেপি নেতারা শুভ্রালোকের ঘরে গিয়ে বসতেই বাড়ির উঠোনে হাজির হয়ে যান ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা উদয়ন গুহর লোক হিসেবে পরিচিত জয়দীপ ঘোষ। চিৎকার করতে থাকেন জয়দীপবাবু। বলেন, “সিপিএম আর বিজেপি যে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এই ঘটনা তারই প্রমাণ।” তিনি আরও বলেন, “শুভ্রালোক বা ওঁর বাড়ির কেউ বিজেপিকে ডাকেনি। ওরা এতটাই নির্লজ্জ যে বিনা নেমন্তন্নেই এখানে চলে এসেছে।”

পাল্টা বিজেপি নেতা দিপ্তীমানবাবু বলেন, “গতকাল রাতে যারা শুভ্রালোকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল তাদের মুখ গুলো অন্ধকারে দেখা যায়নি। এদিন সকালে তা পরিষ্কার হয়ে গেল।”

তবে দীপ্তিমানকে যে ফেসবুক থেকে পোস্ট তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তা মেনে নিয়েছেন তৃণমূল নেতা জয়দীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য পোস্ট না তোলায় সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তাই গতকাল একটু উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তবে শুভ্রালোক বলছেন, তাঁদের লড়াই তৃণমূল-বিজেপি দুইয়ের বিরুদ্ধেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More