শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

কার্নিভাল নিয়ে মমতা-সরকারকে তোপ রাজ্যপালের, লুফে নিয়ে আরও সুর চড়ালেন দিলীপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আড়াই মাসেই একাধিক বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে জগদীপ ধনকড়ের। কিন্তু মঙ্গলবার নবান্নের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিনি। বললেন, দুর্গাপুজোর কার্নিভালে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে অপমান করা হয়েছে। আর রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। বললেন, রাজ্যপালের মন্তব্য খুবই উদ্বেগজনক। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্যে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা বলেন দিলীপবাবু। তাঁকে রাজ্যপালের এই ক্ষোভের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “রাজ্যপাল যে মন্তব্য করেছেন তা খুব উদ্বেগজনক। গণতন্ত্রে সাংবিধানিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে এই ধরণের ব্যবহার হলে তা চিন্তাজনক। এমন হওয়া উচিত নয়। উনি এও পর্যন্ত বলেছেন, আমি কি অচ্ছুত? আমাকে আলাদা রাখা হয়েছিল। মিডিয়াকেও আসতে দেওয়া হয়নি।”

তারপরেই রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে মুখ খোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, “রাজ্যপালের কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্যজুড়ে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই রাজ্য সরকারের মনোভাব হচ্ছে যাকে পছন্দ করি না, তাকে পিছনে রাখব। সামনে আসতে দেব না। সরকার বাধ্য হয়ে রাজ্যপালকে ডেকেছে। চার ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছে। কেউ দেখতেও পাননি। সুতরাং ওনার বক্তব্য স্বাভাবিক। উনি দেশের সামনে এখনকার অবস্থা বলেছেন।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, রাজ্যপালের মারা বল লুফে নিলেন দিলীপ ঘোষ। এর আগেও একাধিক বিষয়ে রাজ্যপালের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতারা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, রাজ্যপাল তো কোনও দলের নন। সাংবিধানিক পদের অধিকারী হয়েও তিনি রাজ্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। এটাই বর্তমান পরিস্থিতি। সেটাই ফের এ দিন করলেন দিলীপবাবু।

প্রসঙ্গত, রাজ্যপাল মঙ্গলবার বলেন, রাজ্যের প্রথম নাগরিককে যে ভাবে আলাদা করে বসিয়ে কোণঠাসা করা হয় তা দুঃখজনক শুধু নয়, লজ্জাজনকও বটে। তাঁর কথায়, “রাজ্যপালকে এমন জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল যে কার্নিভালের অনুষ্ঠানই তিনি দেখতে পারেননি। সামনে কুড়ি বাইশ জন লোক ব্লক করে বসেছিলেন। আমাকে অনেক বার আসন বদলাতে হয় ভাল করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য”। এ কথা বলেই, রাজ্যপাল প্রশ্ন করেন, “এটা কী সৌজন্য? রাজ্যপালের পদ হল সাংবিধানিক পদ। পদেরই মাহাত্ম্য, ব্যক্তি সেখানে বড় নয়। তাঁর সঙ্গে কি এমন আচরণ করা যায়?”

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

গান্ধীজির ট্যাঁকঘড়িটা চুরি গেল

Comments are closed.