রবিবার, এপ্রিল ২১

‘নির্বাচন নয় নিকম্মা কমিশন’, ‘গদ্দারের’ নির্দেশে চলছে: বিস্ফোরক ডেরেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত দিন চিঠিচাপাঠি চলছিল। স্বয়ং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু এ বার সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে ‘নিকম্মা কমিশন’ বলে তোপ দাগল বাংলার শাসকদল।

কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে একরাশ ক্ষোভ জানাতে সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে যায় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখর রায় এবং চন্দন মিত্র দেখা  করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। তারপর  নির্বাচন সদনের বাইরে এসে সাংবাদিক দের মুখোমুখি হয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ডেরেক বলেন, “দশটি বিষয় আজ তৃণমূলের পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়েছে ।” তারপর এক, দুই, তিন করে বিষয়গুলি উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলেই নির্বাচন কমিশন কোচবিহারের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তকে সরিয়ে দিয়ে অমিত কুমার সিংকে ওই জায়গায় বসিয়েছে। কে অমিত সিং? যাঁকে নবান্ন ডেপুটেশনে পাঠিয়েছিল। কমিশন তাঁকে বিহারের আরারিয়া কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছিল। বিহার থেকে কোচবিহারের দায়িত্বে আনা হয়েছে তাঁকে। ডেরেকদের অভিযোগ, মুকুল রায়ের নির্দেশে এই এই কাজ করেছে কমিশন। তিনি বলেন, “৭ এপ্রিল কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে, তৃণমূলের গদ্দার হুমকি দিয়ে বললেন, পুলিশ সুপারকে বদলি করে দেবেন আর সেটাই হল।” তাঁর কথায়, এতে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা কমছে। ডেরেক আরও বলেন, “গদ্দার বসে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে নির্দেশ দিচ্ছে আর তারা দিল্লিতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কী হচ্ছে বাংলায়!” কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে ‘গদ্দার ঘনিষ্ঠ’ বলেও তো দাগেন তিনি। অমিতকুমার সিং-র বাস্তব অভিজ্ঞপ্তা নেই বলেও দাবি ডেরেকের।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে অনুজ শর্মা, বিধাননগরের কমিশনার পদ থেকে জ্ঞানবন্ত সিং এবং কলকাতা বিমান বন্দরের অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ডেরেক এ দিন সাংবাদিকদের বলেন, “কলকাতা এবং বিধাননগরের সিপি-কে সরিয়ে দেওয়া হল কেন? কোটিকোটি টাকা উদ্ধার করেছিলেন তাঁরা। সব টাকা বিজেপি চালান করছিল। সেগুলি ধরেছিল বলেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হল।” বিমানবন্দরের অফিসারকেও একই কারণে সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দেশের অন্যান্য সাংবধানিক প্রতিষ্ঠানের মতো নির্বাচন কমিশনকেও বিজেপি কলুষিত করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র।

এর আগে কমিশনকে কড়া ভাষায় চঠি লিখেছিলেন মমতা। পক্ষপাতদুষ্ট বলেও তো দেগেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাল্টা কমিশনও দিদিকে আরও কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছিল। এ দিন ফের একবার কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল। একেবারে চাঁছাছোলা ভাষায়।

কমিশন সম্পর্কে তৃণমূলের এই বক্তব্য নিয়ে বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, “যারা কমিশনকে নিকম্মা বলে, তাদের মুখে আর যাই হোক অন্তত সংবিধানের কথা মানায় না। ওরা আসলে নিজেদের অবস্থা বুঝতে পেরেই এই সব করছে।”  মুকুল রায় বলেন, “তৃণমূল বুঝতে পারছে হার অনিবার্য। তাই এখন কমিশনের ঘাড়ে বন্দুক রাখতে চাইছে।”

Shares

Comments are closed.