শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

বুলবুলের প্রভাবে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে হাওড়ায়, আশঙ্কা আইএমএ-র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহের শেষেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাণ্ডব দেখিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলবর্তী জেলাগুলি। লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে দুই চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অংশ। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় তেমন প্রভাব না পড়লেও নাগাড়ে দু’দিন বৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। সেই তালিকাতেই নাম রয়েছে হাওড়া জেলার। টানা বৃষ্টির ফলে বেশ কিছু জায়গায় জমেছে জলও। আর তার জেরেই হাওড়া জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (হাওড়া শাখা)।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বুলবুলের প্রভাবে সপ্তাহ শেষে নাগাড়ে বর্ষণ হয়েছে হাওড়ায়। টানা দু’দিনের বেশি বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছে। এই জমা জলে ডেঙ্গির মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। এমনিতেই হাওড়া জেলায় মশার উৎপাত নতুন ঘটনা নয়। বেশিরভাগ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ সন্ধের পর মশার উপদ্রবে টেকা দায়। তাদের আরও অভিযোগ, পুরসভার পক্ষ থেকে এলাকায় মশা মারার তেল বা ধোঁয়া কিছুই স্প্রে করা হয় না। ফলে দিন দিন এলাকায় বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। সরকারি মতে চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে হাওড়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২২০৪। বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা ৪। তবে সরকারি ভাবে হাওড়াতে ডেঙ্গিতে মৃত্যুর কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। এমন পরিসংখ্যানের মধ্যে আইএমএ-র এই আশঙ্কার ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

এ দিকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বুধবার হাওড়া পুরসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, হাওড়া পুরসভার কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস-সহ একাধিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ এবং ১৬ নভেম্বর ডেঙ্গি মোকাবিলায় স্পেশাল ড্রাইভ দেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রে খবর, মোট বারোটা টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী আধিকারিকরা ছাড়াও পুরসভার সাফাই কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন। সরকারি অফিস, স্কুল ছাড়াও সমস্ত ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকাগুলিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতি বাড়িতেই পরিদর্শনে যাবেন। পুরসভার মতে আগামী ১৫ দিন কড়া নজরদারি চলবে এলাকায়। তার ফলে সুরাহা হবে ডেঙ্গি সমস্যার।

Comments are closed.