সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে উদ্ধার যুবকের দেহ, চাকরির নামে প্রতারণার বলি, অভিযোগ পরিবারের

  • 14
  •  
  •  
    14
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের ভিতরের জলাশয় থেকে উদ্ধার হয়েছে এক যুবকের মৃতদেহ। শনিবার ভোরে এই মৃতদেহ ভাসতে দেখেন এক কর্তব্যরত পুলিশকর্মী। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে খোদ পুলিশেরই। দু’জনের বিরুদ্ধে ওয়াটগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। পরিবারের দাবি, পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা ফেরত নিতে কলকাতায় এসেছিলেন যুবক। তারপরেই এই পরিণতি।

পুলিশ সূত্রে খবর, যুবকের নাম প্রসেনজিৎ সিংহ ( ২৮ )। বাড়ি মালদা জেলার পুখুরিয়া থানার মুরচা গ্রামে। তাঁর বাবা উত্তমকুমার সিংহ নিজেও পুলিশ কর্মী। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার কনস্টেবল তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই কলকাতা ছুটে আসেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে দেহ উদ্ধারের পর এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ডাক্তাররা প্রসেনজিৎকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মৃতদেহের মাথায় ক্ষত ও শরীরে কালশিটের দাগ ছিল। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা অবশ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই বোঝা যাবে।

প্রসেনজিতের বাবা উত্তমকুমার অভিযোগ করেছেন পাশের গ্রামের দুই ভাই বিশ্বজিৎ ও ইন্দ্রজিতের বিরুদ্ধে। প্রসেনজিৎ স্নাতকোত্তর পাশ করার পরেই পুলিশে চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু হয়নি। তখনই ওই দুই ভাই তাঁকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা চান বলে অভিযোগ করেছেন উত্তমকুমার। ইন্দ্রজিৎ নিজে রিজার্ভ ফোর্সের কর্মী হওয়ায় বিশ্বাস করে টাকা দেন বলেও জানান তিনি। উত্তমকুমার জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে ছ’লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে তিন দফায় তিন লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তাঁরা।

উত্তমকুমার জানিয়েছেন, টাকা দেওয়ার পরেও প্রসেনজিতের চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চান তাঁরা। অনেক ঘোরানোর পরে অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা বললে টাকা ফেরত দিতে রাজি হন তাঁরা। সেইমতো কলকাতায় ডাকা হয় প্রসেনজিৎকে। ৯ অগস্ট তিনি কলকাতায় আসেন বলে জানা গিয়েছে। বাবা পুলিশে চাকরি করেন বলে আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সেই উঠেছিলেন প্রসেনজিৎ। শুক্রবার রাতেও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন উত্তমকুমার। তিনি বলেন, ছেলে জানান, টাকা ফেরত পাননি। তাই রবিবার বাড়ি ফিরবেন তিনি।

কিন্তু বডিগার্ড লাইন্সের ভিতরে এই ঘটনা কীভাবে ঘটল, সে ব্যাপারে এখনও পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বডিগার্ড লাইন্সের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও। সে দিন কেউ প্রসেনজিতের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল কিনা, সে ব্যাপারেও খোঁজ করা হচ্ছে।

Comments are closed.