শুক্রবার, আগস্ট ২৩

‘দিদিকেই বলছি’, পাল্টা প্রচারে দশ প্রশ্ন ছুড়ে দিল সিপিএম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশ ঘণ্টা হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিমোট টিপে জনসংযোগের নতুন প্রকল্প লঞ্চ করেছেন। ট্রেন, বাস, চায়ের দোকানের আলোচনায় এখন ‘দিদিকে বলো।’ কেউ বলছেন, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে দিদি এ সব করছেন। কেউ বলছেন, ও যাই করুক দিদি, আর কিছুতেই করা যাবে না। এর মধ্যেই ‘দিদিকে বলো’র পাল্টা প্রচার শুরু করে দিল সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া সেল। আলিমুদ্দিনের টেকিরা যার নাম দিয়েছেন ‘দিদিকেই বলছি।’

দিদিকে কী বলছে সিপিএম? দেখে নিন দশটি পয়েন্ট-

১. আপনি যখন রাজ্যের দায়িত্বভার পেয়েছিলেন সেই ২০১১ সালে রাজ্য সরকারের ঋণভারের পরিমাণ ছিল ১লক্ষ ৯২হাজার কোটি টাকা। সেই ঋণভারই ২০১৯-২০’র মাঝামাঝিতেই এসে দাঁড়ালো ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা! কীভাবে? কেন?

২. বছরে দু’লাখ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কী হল? এসএসসি থেকে টেট- লিস্টে নাম উঠেছে মন্ত্রী-কন্যা থেকে তৃণমূল নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের। সাধারণ বেকারদের কাজ কোথায় দিদি?

৩. আদালত থেকে রাজ্যপাল, সবার গলাতেই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে এমন উদ্বোগ কেন? কেন পুলিশকে টেবিলের তলায় লুকোতে হয়? কেন এত রাজনৈতিক হিংসা বাংলায়?

৪. একুশের সমাবেশে আপনি বললেন গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে। বাংলায় গণতন্ত্র ফেরানোর দায়িত্ব কার দিদি? বাংলার পুলিশমন্ত্রী কে?

৫. মিড ডে মিল থেকে ১০০ দিনের কাজ—সবেতেই কাটমানি। আপনি বলেছিলেন ৭৫ শতাংশ দলকে দিয়ে ২৫ শতাংশ নিতে। এখন কেন কাটমানি নিয়ে এত কথা আপনার মুখে?

৬. দিদি, আপনি কি সত্যিই ২০১৩-র পয়লা বৈশাখের আগে সারদার কথা জানতেন না? ২০১২ সালে কালিম্পঙের ডেলোতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন আর রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে বৈঠক করেননি?

৭. মানুষের টাকা লুঠে নেওয়া চিটফান্ডের কর্তারা ছাড়া আপনার আঁকা ছবি আর কেউ কেনেননি কেন দিদি?

৮. ২০১৬ তে নারদা ফুটেজ প্রকাশের পর দিদি আপনি বলেছিলেন, ‘আগে জানলে প্রার্থী করতাম না।’ উনিশের ভোটে তাঁদেরই (সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অপরূপা পোদ্দার সহ অন্যান্য) প্রার্থী করলেন কেন?

৯. আপনি বলছেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে? কী করে আপনার জমানাতেই বাংলায় আরএসএস-এর এত শাখা বাড়ল?

১০. গত আট বছরে এরাজ্যে ধুলাগড় থেকে কাঁকিনাড়া, আসানসোল থেকে বসিরহাট-সর্বত্র সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে কেন বিজেপি’র পাশাপাশি আপনাদের দলের বাহিনীর বিরুদ্ধে হানাহানিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ?

সিপিএমের ‘দিদিকে বলছি’ প্রচারেই বলা হচ্ছে, শিলাদিত্য চৌধুরি সারের দাম বলইতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু দিদি তখন মাওবাদী বলে তাঁকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্সির ছাত্রী তানিয়া ভরদ্বাজ প্রশ্ন করায় এসএফআই, সিপিএমের লোক তকমা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ রকম অসংখ্য ঘটনার কথা লিখে এবং মিম বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ছেন বামকর্মীরা।

যদিও তৃণমূল এ সবে আমল দিচ্ছে না। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “ওদের ভোটও নেই। আসনও নেই। সবটাই বিজেপি-র কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন যে কটা লোক আছে তাঁদের কোনও কাজ নেই। তাই ঘরে বসে বসে এ সব করছে।”

Comments are closed.