বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

সুশান্ত ঘোষকে হয়তো বহিষ্কার করবে না সিপিএম! কিন্তু কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিএমের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে দল। শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তাঁকে ইতিমধ্যেই শোকজ করেছে সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটি। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কিংবা আর এক কদম এগোতে পারে সিপিএম। তার বেশি নয়! সুশান্ত ঘোষকে হয়তো বহিষ্কারের পথে হাঁটবে না সিপিএম।

একটি ওয়েবসাইটে সুশান্ত ঘোষ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ দলের একাধিক প্রথম সারির নেতার নাম করে আক্রমণ শানান। তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই ধারাবাহিক নিয়ে সিপিএমের অভ্যন্তরে চর্চার শেষ নেই। ভোট এসে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মার্চ মাস থেকে আর নাড়াচাড়া করেনি আলিমুদ্দিন। কিন্তু ভোট মিটতেই সুশান্তকে শায়েস্তা করতে নেমে পড়েছেন সিপিএমের একাধিক রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।

গত রাজ্য কমিটির অধিবেশনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক নেতা অভিযোগ করেন সুশান্তর বিরুদ্ধে। তারপর পদক্ষেপ করে সিপিএম। রাজ্য সম্পাদক সূর্যবাবু পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক তরুণ রায়কে ডেকে বলে দেন, “ওঁকে শোকজ করুন।” সুশান্তবাবু আদালতের নির্দেশে জেলায় যেতে পারেন না। ঘটনাচক্রে এখন তিনি যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবেশী। সূত্রের খবর, গত শুক্রবার জেলা কমিটির শোকজ চিঠি সুশান্তবাবুর ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে পৌঁছেছে। খুব শিগগির জবাবও দেবেন তিনি।

বস্তুত সুশান্ত ঘোষের অনুগামী সিপিএমের মধ্যে কম নেই। দলের রাজ্য কমিটিতে ঠাঁই না হলেও জেলায় জেলায় তাঁর ভক্ত রয়েছে। এখনও সিপিএমের অনেকে মনে করেন, ওঁর মতো ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করার নেতাকেই এখন সামনের সারিতে দরকার। কিন্তু সিপিএম এখন মরিয়া সুশান্তকে শাস্তি দিতে।

তবে অনেকেই বলছেন, যাই করুক সিপিএম, দল থেকে গড়বেতার প্রাক্তন বিধায়ককে বার করে দিতে পারবে না। কেন?

সুশান্তবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এমন নজির তো সিপিএমে কম নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি যখন সিদ্ধান্ত নিল সীতারাম ইয়েচুরিকে রাজ্যসভায় আর যেতে দেবে না, তখন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেছিলেন, “দিল্লির নেতাদের মাথায় ক্যাড়া পোকা আছে। ওরা সীতারামের জনপ্রিয়তাকে হিংসা করে।” ষোলর বিধানসভাতে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়েও বাংলার নেতারা শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন না দিলেও সূর্য মিশ্ররা এসে এখানে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে পলিটব্যুরোর ডিভিশন বেঞ্চ এসে আলিমুদ্দিনকে সতর্ক করে দিয়েছিল, এ রকম নিজেদের মতো চললে এরপর ফল ভাল হবে না।

ফলে সিপিএমের অনেকেই বলছেন, সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে যদি বড় কোনও পদক্ষেপ করে দল, তাহলে বিপাকে পড়তে হতে পারে অনেক বড় নেতাকেই। কারণ পোড় খাওয়া সুশান্ত উদাহরণ হাতে করেই দলের কন্ট্রোল কমিশনে গিয়ে বলতে পারেন, “হুজুর! আপনারা কি এক এক জনের জন্য এক এক রকম নিয়ম করেছেন?” শুধু তাই নয়, নিচুতলাতেও ঝড় বয়ে যেতে পারে।

একই সঙ্গে সিপিএমের অনেকে এ-ও বলছেন, এটা সবাই বুঝতে পারছে, এখন কেন সুশান্তবাবুর বিরুদ্ধে এত কড়া হচ্ছে দল। এর পিছনে দলের গোষ্ঠী কোন্দলকেই দায়ী করছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, একটা সময়ে দীপক সরকার আর সুশান্ত ঘোষ ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর সিপিএমের শেষ কথা, তখন সূর্যবাবু জেলার ভূমিপুত্র হয়েও বিশেষ নড়াচড়া করতে পারতেন না। জেলার রাজনীতিতে তিনি ছিলেন কোণঠাসা। এখন দীপকবাবু প্রায় ঘরে বসে গিয়েছেন।  পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক এখন তরুণ রায়। তিনিও দলের মধ্যে সূর্য-অনুগামী বলেই পরিচিত। ফলে এই তৎপরতাকে অনেকেই প্রতিহিংসা হিসেবে দেখতে পারেন। তার সঙ্গে একদা যুব ফ্রন্টের সর্বভারতীয় নেতা, যিনি রাজ্য কমিটির বৈঠকে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে সরকারি ভাবে অভিযোগ এনেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে লেখা টুকলি করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে সাসপেন্ডও করেছিল দল।

তাই সব দেখে অনেকেই বলছেন, হয়তো প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা বা কিছুদিন সাসপেন্ড করেই এ যাত্রায় সুশান্তকে ছেড়ে দেবে দল।

Comments are closed.