রবিবার, অক্টোবর ২০

মমতার হাত ধরতে পারি, তবে ওঁকে কিছু শর্ত মানতে হবে: গৌতম দেব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধরা যাক কোনও একটা শনিবার দুপুরে হঠাৎ দেখা গেল বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র তৃণমূল ভবনে ঢুকছেন। দীর্ঘ বৈঠকে মিলল না রফাসূত্র। ঠিক হল পরের দিন ফের বৈঠক হবে। রবিবার দুপুরে আলিমুদ্দিনে ঢুকছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী।

দৃশ্যটা যতই অবাস্তব মনে হোক, এমনই জল্পনা উস্কে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বর্ষীয়ান এই সিপিএম নেতা বিজেপি-কে ঠেকানো নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গে  বলেছেন, রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা। এখানে কেউ অস্পৃশ্য নয়।

একই সঙ্গে সুভাষ চক্রবর্তীর স্নেহধন্য এই নেতা বলেন, “মমতার হাত ধরার ব্যাপারে হ্যাঁ বা না কিছুই বলছি না। তবে মমতাকে এখনও অনেক কিছু করতে হবে। আমাদের শর্ত মানলে তবেই তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা সম্ভব।” যার সোজা অর্থ, তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের সমঝোতা হওয়া একেবারে অলীক কিছু নয়।

একটা সময় তাঁর ভোকাল টনিকেই উজ্জীবিত হতেন বাংলার তামাম বামকর্মীরা। সেই সিপিএম নেতা গৌতম দেব তৃণমূলকে ঠেকাতে ১৬-র বিধানসভার অনেকটা আগে থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার লাইনের কথা বলতেন প্রকাশ্যে। দলের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই বলতেন। এ নিয়ে সিপিএমের একাধিক রাজ্য কমিটির বৈঠক উত্তপ্ত হয়েছে। কিন্তু গৌতম থামেননি। সেই জোট হয়েছিল। এ বার সেই গৌতমই উস্কে দিলেন বিজেপি-কে ঠেকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরার প্রসঙ্গ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি-র প্রশ্নে এখন তৃণমূলের অবস্থান যা, সিপিএমের-ও তাই। কিন্তু সিপিএমের লাইন আবার বিজেপি-তৃণমূল একই মুদ্রার এ পিঠ ও পিঠ। রাজনৈতিক লড়াই লড়তে হবে দুই শক্তির বিরুদ্ধেই। কিন্তু গৌতমের এ দিনের মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই জলঘোলা হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

কয়েকদিন আগেই বিজেপি-কে ঠেকাতে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মান্নান ভাই, সুজনদা, চলুন না আমরা একসঙ্গে লড়ি।” কিন্তু মান্নান-সুজনরা পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন। তাহলে ওই ঘটনার পর সপ্তাহ না কাটতেই গৌতমের এমন মন্তব্য কেন?

সিপিএমের একাংশের নেতাদের বক্তব্য, হয়তো পার্টির শীর্ষস্তর থেকেই গৌতমবাবুকে দিয়ে এমনটা বলানো হয়েছে। এই কথার প্রতিক্রিয়া হবে পার্টি সদস্যদের মধ্যে। তা থেকে বোঝা যাবে কী চাইছেন তাঁরা। আরেকটা অংশের বক্তব্য অবশ্য অন্য। তাঁদের কথায়, এই ধরনের কথা বলার প্রশ্নে গৌতম দেব শিল্পী। সবটা যে দলের বক্তব্য তা নয়। উনি নিজে নিজেই অনেক সময়ে এমন অনেক কথা বলে ফেলেন। সীতারাম ইয়েচুরিকে রাজ্যসভার সাংসদ না হওয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের পর গৌতম বলেছিলেন, “দিল্লির নেতারা হিংসুটে। ওঁরা সীতারামের জনপ্রিয়তাকে হিংসা করে।”

পর্যবেক্ষকদের কারও কারও বক্তব্য, গৌতমবাবু ঠিকই বলেছেন। রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। কখন কী হয় বলা যায় না। কে ভেবেছিল উঠতে বসতে সিদ্ধার্থ রায়, ইন্দিরা গান্ধীকে গালি দেওয়া পার্টিটা জোট করে ভোট লড়বে?

Comments are closed.