করোনা সংক্রমণ এক ধাক্কায় বাড়ল, উদ্বেগ পূর্ব বর্ধমানে

বর্ধমান শহরেও কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শনিবার নতুন করে ১০ জন ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। জেলাজুড়ে কোভিড পজিটিভ রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮২ জন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ছ’দিন ধরেই সংক্রমণ গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পূর্ব বর্ধমানে। একই ছবি পশ্চিম বর্ধমানেও। গত দু’দিনে কিছুটা হলেও কমেছিল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর হিসেব বলছে, একদিনে ফের নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩৯ জনের শরীরে। একদিনে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুও হয়েছে ৭ জনের।

বর্ধমান শহরেও কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শনিবার নতুন করে ১০ জন ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। জেলাজুড়ে কোভিড পজিটিভ রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮২ জন। এর মধ্যেই আবার কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। হিসেব বলছে, এখনও অবধি করোনাভাইরাস সক্রিয় অন্তত ২৮৫ জনের শরীরে। ছ’জন করোনা রোগী সংক্রমণ সারালেও দ্বিতীয়বার তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষা করে ফের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জেলায় সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যাও বেড়েছে। কোভিড সারিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৮৭ জন।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যত বাড়ছে জেলায় কনটেনমেন্ট জ়োনের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। রাজ্যের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা এখন সব চেয়ে বেশি। জেলায় এখন মোট কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা হয়েছে ১৭৭। গত মাসেও বর্ধমানের করোনা কার্ভ ছিল কমতির দিকেই। লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। খুলেছিল দোকান বাজার। রাস্তাঘাটে ভিড়ও চোখে পড়েছিল। ফলে ফের আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে গত ২২ জুলাই থেকে সাতদিনের কড়া লকডাউন জারি করা হয়েছে বর্ধমানে। প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। রাস্তায় নেমে ধরপাকড় করছে পুলিশ। লকডাউন ভাঙলেই আটক করা হচ্ছে। শনিবারই লকডাউন ভাঙার অভিযোগে ৮৮ জনকে আটক করা হয়।

বর্ধনামে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং অন্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দফায় দফায় বৈঠক চলছে। জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবাও চিন্তার কারণ। বিশেষত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছ’জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত। তাঁরা প্রসূতি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। শহর ও জেলার বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিংহোমে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে রোগী ভর্তি প্রায় বন্ধ হতে চলেছে।  ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রামিত হতে শুরু করলে, চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মতো লোক থাকবে না, সেই আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More