করোনা: হুগলিতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গত ২৪ ঘণ্টায়, অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক

শনিবার সন্ধেবেলা স্বাস্থ্যভবন যে বুলেটিন প্রকাশ রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুগলিতে সংক্রামিত হয়েছেন ৮২ জন। যা জেলা প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক লাফে ৮২!

    শনিবার সন্ধেবেলা স্বাস্থ্যভবন যে বুলেটিন প্রকাশ রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুগলিতে সংক্রামিত হয়েছেন ৮২ জন। যা জেলা প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জেলাশাসকের দফতর সূত্রে খবর, এই ৮২ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিক।

    গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩৫ জন। এযাবৎ কালে যা একদিনে সর্বাধিক। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। মহানগরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ জন। তারপরই রয়েছে। হুগলি। যদিও করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যু হয়নি। এখনও পর্যন্ত হুগলিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫৫ জন। গঙ্গাপাড়ের এই জেলায় সেরে উঠেছেন ১৭৩ জন।

    মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চন্দননগরের উর্দিবাজার এলাকায় একের পর এক সংক্রমণ জেলা প্রশাসনের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল। যদিও একের পর এক পদক্ষেপ করে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা সেই মাত্রাকে এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিয়েছে।

    আক্রান্তদের মধ্যে যেমন আরামবাগের শ্রমিক রয়েছেন তেমনই রয়েছেন ধনেখালির শ্রমিক। সংক্রমণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় আটকে নেই। শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চল– সর্বত্রই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। জেলা প্রশাসনের আশঙ্কা। আগামী কয়েকদিনে তা আরও বাড়তে পারে।

    যদিও অনেক জায়গার সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, সংক্রমণের শীর্ষে থাকা পাঁচ রাজ্য থেকে যাঁরা ফিরছেন তাঁদের অনেক জায়গায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হচ্ছে না। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলির অব্যবস্থারও অভিযোগ উঠেছে অনেক জায়গায়।

    এর মধ্যেই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে হুগলির বৈদ্যবাটি পৌর এলাকার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। মাটিপাড়া ধানমাঠ এলাকার এক বাসিন্দার গত ১৭-১৮ তারিখ নাগাদ প্রবল জ্বর আসে। তাঁর ছেলে জানিয়েছেন, উমফানের পরের দিন অর্থাৎ ২১ মে নমুনা পরীক্ষার জন্য উত্তরপাড়ায় নিয়ে যান বাবাকে। উত্তরপাড়ার কোভিড হাসপাতাল রেফার করে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে। ২২ মে ওয়ালশে ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন চিকিৎসকরা। তিনি ফিরে আসেন। এর মধ্যে আস্তে আস্তে তাঁর জ্বর কমে যায়। তিনি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন। দুশ্চিন্তা কেটে যায় পরিবার ও পাড়ার লোকের। কিন্তু শনিবার ওয়ালশ হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয় তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ।

    অর্থাৎ টেস্ট হয়েছিল ২২ মে। রিপোর্ট এল ৬ জুন। এদিন প্রশাসনের তরফে ওই বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনের নোটিস লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত ওই পরিবারকে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এলাকার লোকজন ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় যুবক অমিত রায় বলেন, “এটা কোনও দায়িত্বশীল প্রশাসন নয়। যা ইচ্ছে করে যাচ্ছে। আক্রান্তের নিরাপত্তা নেই। তার আশপাশের মানুষেরও নিরাপত্তা নেই। এ তো দেখছি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More