পশ্চিমবঙ্গে সংক্রামিতের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে জাতীয় গড়ের কম সময়ে, তুলনামূলক হিসেব দেখুন

কেন্দ্র ও রাজ্যের পরিসংখ্যান বিচার করলে বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ডাবলিং রেট ৬, যা জাতীয় গড়ের থেকে কম। মানে কম সময়ে মধ্যে বেশি হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে, আক্রান্তের ‘ডাবলিং রেট’ অর্থাৎ দ্বিগুণ হওয়ার সময় বেড়েছে। দেশের ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জাতীয় গড়ের থেকে অনেক বেশি সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে বলেও জানিয়ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কিন্তু এই পরিসংখ্যানে পশ্চিমবঙ্গের নাম নেই। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে জাতীয় গড়ের কম সময়ে।

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন ১৮ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জাতীয় গড়ের থেকেও বেশি সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে।

    এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কেরল। এই রাজ্যে বর্তমানে কোভিড-১৯ ডাবলিং রেট ৭২.২ দিন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে ৭২.২ দিন সময় লাগছে। তারপরেই রয়েছে ওড়িশা। এই রাজ্যে ডাবলিং রেট ৩৯.৮ দিন। তারপর বেশি থেকে কম অনুযায়ী রাজ্যগুলির পরিসংখ্যান অনেকটা এরকম- লাদাখ (২৬.৬ দিন), উত্তরাখণ্ড (২৬.৬ দিন), অসম (২৫.৮ দিন), চণ্ডীগড় (২৫.৪ দিন), হিমাচল প্রদেশ (২৪.৫ দিন), হরিয়ানা (২১ দিন), আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (২০.১ দিন), বিহার (১৬.৪ দিন), তামিলনাড়ু (১৪ দিন), ছত্তীসগড় (১৩.৩ দিন), পঞ্জাব (১৩.১ দিন), জম্মু ও কাশ্মীর (১১.৫ দিন), অন্ধ্রপ্রদেশ (১০.৬ দিন), তেলেঙ্গানা (৯.৪ দিন), কর্নাটক (৯.২ দিন) ও দিল্লি (৮.৫ দিন)।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী লকডাউনের আগে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার জাতীয় গড় ছিল ৩.৪ দিন। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৭.৫ দিন।

    এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার গড় জাতীয় গড়ের থেকে কম। বর্তমানে রাজ্যের পরিসংখ্যান বিচার করলে দেখা যাবে এই রাজ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্তের ডাবলিং রেট ৬ দিন। অর্থাৎ দেশের জাতীয় গড়ের থেকে কম সময়ে বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গে কী হিসাবে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে, তা কেন্দ্র ও রাজ্যের পরিসংখ্যান থেকেও বিচার করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫২। ১৪ এপ্রিল তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯০। আর ২০ এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার এই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩৯। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে ৬ দিনের কিছুটা বেশি সময় লেগেছে।

    অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা জানানোই হচ্ছে না। কেবল কোভিড-১৯ অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা জানানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল রাজ্যে করোনা-অ্যাকটিভ সংখ্যা ছিল ১১৫। ১৫ এপ্রিল তা বেড়ে হয় ১৩২। ২০ এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার এই কোভিড ১৯ অ্যাকটিভ সংখ্যা ২৪৫। অর্থাৎ এই অ্যাকটিভ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে সময় লেগেছে ৬ দিনের কিছুটা কম।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের পরিসংখ্যান বিচার করলে বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ডাবলিং রেট ৬, যা জাতীয় গড়ের থেকে কম। মানে কম সময়ের মধ্যে বেশি হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More