রেশন পেতে কোলে শিশু নিয়ে হাঁটলেন বারোশো কিলোমিটার, হায়দরাবাদ থেকে দম্পতি এলেন উলুবেড়িয়ায়, গন্তব্য মহম্মদবাজার

২৮ এপ্রিল তাঁরা হাঁটতে শুরু করেন হায়দরাবাদ থেকে। যেতে হবে বীরভূমের মহম্মদবাজার। মঙ্গলবার তাঁরা এসে পৌঁছান হাওড়ার উলুবেড়িয়ায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে ফিরলে রেশন পাবেন। জুটবে খাবার। সেই আশায় মরিয়া চেষ্টা করলেন এক দম্পতি। টানা পনেরো দিন ধরে প্রায় বারোশো কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন তাঁরা। কোলে বছর পাঁচেকের শিশুকন্যা এবং সঙ্গে এক প্রতিবেশী। ২৮ এপ্রিল তাঁরা হাঁটতে শুরু করেন হায়দরাবাদ থেকে। রেশন পেতে হলে পৌঁছতে হবে বাড়িতে অর্থাৎ বীরভূমের মহম্মদবাজারে। মঙ্গলবার তাঁরা এসে পৌঁছান হাওড়ার উলুবেড়িয়ায়।

এই দীর্ঘ পথ তাঁরা হেঁটেছেন কার্যত কিছু না খেয়ে। একবস্ত্রে। পথে আক্ষরিক অর্থেই ঝড়-ঝাপটা সামলাতে হয়েছে। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তিনজনের মাথায় তিনটে ব্যাগ। ব্যাগে রয়েছে খানিকটা চিঁড়ে ও কয়েক প্যাকেট করে বিস্কুট। সেই চিঁড়ে, বিস্কুট আর রাস্তার কলের জল খেয়েই গত পনেরো দিন মাইলের পর মাইল তাঁরা হেঁটেছেন। রাস্তায় কয়েকটি জায়গায় অবশ্য খেতে পেয়েছেন যেখানে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খাবারের ব্যবস্থা করেছে।

বীরভূমের মহম্মদবাজারের দম্পতি মুরাফ হোসেন ও সুরামণি গত পনেরো দিনের কথা ভাবলেই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। কোলের শিশু ছাড়াও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন প্রতিবেশী সালেমা। তাঁরা হায়দরাবাদে একটি পাউডার কোম্পানিতে কাজ করতেন। লকডাউনের তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য কিছু পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। তা দিয়ে কয়েক দিন চলেছে।

উলুবেড়িয়ায় মুম্বই রোডের ধারে একটি গাছের তলায় বসে মুরাফ হোসেন বললেন, “ভেবেছিলাম লকডাউন উঠে যাবে। তখন আবার কাজে যোগ দেব। আবার রোজগার হবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দেখলাম লকডাউন বেড়েই চলেছে। তাই শেষে একদিন হেঁটে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করলাম কারণ বাড়ি পৌঁছতে পারলে রেশন তুলতে পারব। তখন খাবারের সমস্যা থাকবে না। ছোট মেয়েটাকেও খাওয়াতে পারব। আমরা বাড়ি আসছি শুনে আমাদের সঙ্গে যোগ দিল আমাদের প্রতিবেশী সালেমা।”

দিন চারেক হাঁটার পরে  শুরু হল ঝড়-বৃষ্টি। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। রাস্তার ধারে কোনও রকমে একটি দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নেন তাঁরা। বাকি দিনগুলো তাঁরা খোলা আকাশের নীচে রাস্তার পাশেই রাতে বিশ্রাম করেছেন।  ছোট শিশুকে কখনও কোলে চড়িয়ে ও কখনও খানিকটা হাঁটিয়ে নিয়ে চলেছে দম্পতি। মুরাফ হোসেন বলেন, “রাস্তায় দু’এক বার পুলিশ আটকালেও কিছু বলেনি। পুলিশ দেখে কয়েক বার বলেছিলাম একটি গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য যাতে  কিছুটা পথ এগিয়ে যেতে পারি। উল্টে আমাদের ধমক দিয়েছে। তাই ভয়ে পরে আর কোনও পুলিশকে কিছু বলিনি। জানি না কবে গ্রামে ফিরতে পারব।” কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে ফের তাঁরা হাঁটতে শুরু করেন।

হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সৌম রায় বলেন, “এতগুলি রাজ্য পেরিয়ে পুলিশের চোখ এড়িয়ে কী ভাবে পনেরো দিন হেঁটে আসছেন ওঁরা সেটা ভাবার বিষয়।  মানুষের বাড়ি ফেরার এতটাই তাগিদ যে সব সময় তাঁরাও সত্যি কথা বলছেন না।” অনেক সময় পুলিশের চোখ এড়িয়েই তাঁরা তাদের গ্রামে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More