লকডাউনের জেরে কেরলে আটকে স্বামী, হাঁড়ি চড়ানোই মুশকিল হচ্ছে হরিহরপাড়ার জুলেখা বিবির

রাজ্যে কাজ নেই, কাজ করলেও টাকা নেই। তাই ভিন রাজ্যে গেছেন কাজের খোঁজে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজমিস্ত্রীর কাজের জন্য ভিনরাজ্যে থাকেন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার কেশাইপুর গ্রামের আশরাফুল শাহ। কাজের জন্য এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি গেছেন কেরলে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজোড়া লকডাউন চলায় এখন ফিরতেও পারছেন না আবার বাড়িতে টাকাও পাঠাতে পারছেন না। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও তিন কন্যা।

    আশরাফুলের স্ত্রী জুলেখা বিবি এখন তিন সন্তানকে আগলে নিয়ে বাড়িতেই বসে আছেন। হাতে টাকাপয়সা না থাকায় এখন তাঁদের করুণ অবস্থা। খাবার মতো চাল-ডাল পর্যন্ত নেই। তাই প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকে চেয়ে-চিন্তে খাওয়া-দাওয়া করতে হচ্ছে তাঁদের।

    তাঁর বড় মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা এবারে মাধ্যমিক দিয়েছেন। মেজ মেয়ে আশিয়া খাতুন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে খুশবু খাতুন পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে।

    আশিয়া খাতুনের কথায়, “আমাদের পড়াশোনা ও খাওয়া চালানোর জন্য কাজ নেই গ্রামে। জেলাতেও কাজ পায়নি বলে বাবাকে বাইরে যেতে হয়েছে। বাবাকে আর কাজে যেতে দেব না। বাবা তাড়াতাড়ি ফিরে আসুক।”

    জুলেখা বিবি বলেন, “আমাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে। তাদের পড়াশোনার খরচ রয়েছে। এখানে রোজগার নেই বলে টাকার জন্য আমিই ওকে বাইরে পাঠিয়েছি। এখানে দিনে দুশো থেকে আড়াইশো টাকা রোজ তাও রোজ কাজ জোটে না। ওখানে ঠিকাদারের সঙ্গে গেছে। দিনে ছশো থেকে সাতশো টাকা রোজ। বাড়তি কাজ করলে দিনে আরও শ’দুয়েক টাকা বেশি রোজগার করা যায়। সেজন্যই ওখানে গেছে।”

    আয়েশা জানিয়েছেন যে কেরলে থাকার ব্যবস্থা করেন ঠিকাদারই। খাওয়ার জন্য দিনে ২৫-৩০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। তাই বেশ কিছু টাকা জমে যায়। তাতে সংসারের সুরাহা হয়। এবার করোনার জেরে আচমকা লকডাউন হয়ে যাওয়াতেই সমস্যা শুরু হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আঠেরোটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যে আটকে পড়া বাঙালি শ্রমিকদের সহায়তা করেন। তবে মুশকিলে পড়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More