শ্রীরামপুর কলেজে তারস্বরে সোশ্যাল, মাধ্যমিক চলছে ভ্রূক্ষেপ নেই, সহ অধ্যক্ষের আজব যুক্তি

শ্রীরামপুর কলেজের ছাত্র সংসদ পরিচালনা করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি আকাশ পাত্রও বলেন, “আমাদের কলেজের একদিকে টেক্সটাইল কলেজ, অন্যদিকে জুটমিল এবং সামনে গঙ্গা। তাই কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়!”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক চলাকালীন বৃহস্পতিবার বর্ধমানে মাইক বাজানোর অভিযোগ  উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সন্ধেবেলা একই ঘটনা ঘটল শ্রীরামপুর কলেজে। কলেজ সোশ্যাল উপলক্ষে বিধি উড়িয়েই তারস্বরে বাজল মাইক। কিন্তু গোটা ঘটনায় নির্লিপ্ত কলেজ প্রশাসন। কলেজের সহ অধ্যক্ষ বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলে দিলেন, “আমাদের কলেজের আশপাশে কোনও বসতি এলাকা নেই।”

    শ্রীরামপুর কলেজের ছাত্র সংসদ পরিচালনা করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি আকাশ পাত্রও বলেন, “আমাদের কলেজের একদিকে টেক্সটাইল কলেজ, অন্যদিকে জুটমিল এবং সামনে গঙ্গা। তাই কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়!” তাঁর কথায়, “গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ছিল। তাই সোশ্যাল করা যায়নি।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বসতি থাকুক আর না থাকুক, মাধ্যমিক চলাকালীন কি এইভাবে মাইক বাজানো যায়? জবাবে তিনি বলেন, “আপনি স্যারেদের সঙ্গে কথা বলুন।”

    বিদ্যুৎবাবুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনি কখনও শ্রীরামপুর কলেজে আসেননি তাই এসব প্রশ্ন করছেন। আমাদের কলেজের পাশে কোনও বসতি এলাকা নেই।” কিন্তু স্যর বসতি না থাকলেও কি মাধ্যমিকের সময়ে এই ভাবে মাইক বাজানো যায়? প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে দেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল।

    প্রশ্ন হচ্ছে, এই অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রশাসন কী করে দিল? একথা জানতে শ্রীরামপুর থানার আইসি দিব্যেন্দু দাসকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে। বর্ধমানে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের কর্মসূচি চলছিল লোকসংস্কৃতি ভবনে। কিন্তু বাইরেও বাজছিল চোঙা। বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে গতকাল সকালেই সেই চোঙা বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকের বক্তব্য, শ্রীরামপুর কলেজের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসন করেনি।

    কিন্তু শ্রীরামপুর কলেজের আশপাশে কি সত্যিই কোনও বসতি নেই? স্থানীয়রা বলছেন এটা ডাহা মিথ্যে কথা। কলেজের পিছনের দিকে বহু বাড়ি রয়েছে। এবং সেখানকার অনেকের অভিযোগ, কাল সন্ধের পর থেকে মাইকের শব্দে টেকা দায় হয়ে গিয়েছিল। এক প্রাক্তন ছাত্রের কথায়, “কলেজের পিছনেই মনসার দোকান। তার আশেপাশে কত বাড়ি। আমরা কি কখনও কলেজ যাইনি নাকি!” শুধু তাই নয়, ৩০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে নার্সিংহোম এবং জুটমিলের কোয়ার্টার। গোটা বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More