শনিবার, মে ২৫

সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে তৃণমূলের প্রচার, বিতর্কের ঝড় ময়দানে, নিন্দা সত্যজিতের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপধ্যায় প্রচারের শুরু থেকেই নানান রঙ ছড়িয়েছেন। কখনও হাওড়া স্টেডিয়ামে বল নাচিয়েছেন, কখনও তারাপীঠের পুরোহিত এনে সঙ্কটমোচন যজ্ঞ করিয়েছেন। এ বার সেই প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার ঘিরেই তৈরি হল বিতর্ক। মধ্য হাওড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক দল তৃণমূলকর্মী দলের ঝাণ্ডা কাঁধে মিছিলে হাঁটলেন সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে। আর যা নিয়ে মোহন সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক।

গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ক্লাবের অন্যতম কর্তা তথা মোহনবাগানের ঘরের ছেলে বলে খ্যাত সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই ব্যাপারটা একদমই ঠিক না। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। কিন্তু ক্লাব আর রাজনীতি তো আলাদা জায়গা। এটা যাঁরা করেছেন, তাঁদের দায়িত্ব। তাঁরা রঙটা ব্যবহার না করলেই পারতেন।” সেই সঙ্গে সত্যজিৎবাবু আরও বলেন, “যে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় মোহনবাগানের হয়ে এত ম্যাচ খেলেছেন, এত তাঁর অবদান, তিনিও তো কখনও সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে প্রচারে যান না।”

এ ব্যাপারে অবশ্য প্রসূনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অন্য জায়গায় অন্য কর্মসূচিতে আছি। আমি ব্যাপারটি জানি না। ছবিও দেখিনি। জেনে নিয়ে তারপর বলতে পারব।”

এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে মোহন সমর্থকদের মধ্যে। উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এক সিপিএম নেতা ও মোহনবাগান সমর্থক মোহিত চৌধুরী বলেন, “এটাই তৃণমূলের কালচার। সব কিছুকে নিজেদের দখলে আনা। টিভিতে ঘুষ নিতে দেখা যাওয়া একজনের সমর্থনে যাঁরা সবুজ-মেরুন জার্সি পড়ে হাঁটলেন, তাতে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের মর্যাদা একটুও বাড়ল না। এটা লজ্জার।” বৈদ্যবাটির বাসিন্দা কংগ্রেস নেতা তথা উগ্র মোহনবাগান সমর্থক রাজা বোস বলেন, “এই ঘটনা মোটেই মেনে নেওয়া যায় না।” আবদুল মান্নান-ঘনিষ্ঠ এই কংগ্রেস নেতার কথায়, “খেলা আর রাজনীতি একেবারে অন্য ব্যাপার। আমি সত্যজিৎবাবুর মতকে একশো শতাংশ সমর্থন করি।”

যদিও এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে দু’রকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। মধ্য হাওড়ার এক মোহনবাগান সমর্থক অরুণাভ কর বলেন, “মোহনবাগান একটা পবিত্র ব্যাপার। জাতীয় ক্লাবের জার্সি গায়ে প্রচার করার মধ্যে কোনও ভুল আছে বলে মনে করি না। কারণ হাওড়ার ৯০ শতাংশ মানুষ মোহনবাগান সমর্থক।” যদিও সালকিয়া বাবুডাঙার তৃণমূলকর্মী ও মোহনবাগান সমর্থক আবির দাশগুপ্ত বলেন, “মোহনবাগান মানে তো শুধু তৃণমূল নয়। এটা একেবারে অন্য একটা জগৎ। ভোটের প্রচারে সবুজ-মেরুন জার্সি না ব্যবহার করলেই ভাল হত।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, হাওড়ার প্রাক্তন সাংসদ অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছিলেন প্রসূনকে। অনেকে মনে করেন, হাওড়ার মোহনবাগান আবেগ কে ব্যবহার করতেই দিদি কৌশলে প্রার্থী করেছিলেন তাঁকে। যদিও সবটাই ছিল ভিতর ভিতর। কিন্তু এ বার তা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল।

Shares

Comments are closed.