প্রাইমারিতে চাকরি দেওয়ার নামে কাটমানি, ঠিকারদারকে প্রকাশ্য রাস্তায় মার প্রতারিতদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : এ বার আর কোনও রাজনৈতিক কর্মী নন, প্রাইমারিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠল এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। আর তারপরেই হয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ঠিকাদারকে ধরে উত্তম-মধ্যম দিলে প্রতারিতরা। অবশেষে পুলিশ এসে ঠিকাদারকে ধরে নিয়ে যায় থানায়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিতরা।

    ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের দেউলিয়া বাজার এলাকার। অভিযোগ, সেখানকার ঠিকাদার গোবিন্দ বেরা প্রাইমারিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে এলাকার অনেকের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর চাকরি তো দিতে পারেনই নি, উপরন্তু টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। প্রতারিতরা বেশ কয়েকদিন থেকেই দেউলিয়া বাজারে গোবিন্দবাবুর নামে পোস্টার টাঙিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন।

    রবিবার সকালে বাজারে সবাই দেখতে পান গোবিন্দ বেরাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ধরেন প্রতারিতরা। শুরু হয় বিক্ষোভ। চলে চড়-থাপ্পড়। খবর পায় কোলাঘাট থানার পুলিশ। তাঁরা সেখানে এসে উদ্ধার করেন গোবিন্দবাবুকে। স্থানীয় মানুষদের বলা হয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানাতে।

    স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া গোবিন্দ বেরার আজকের কাজ নয়। বাম জমানা থেকেই প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে টাকা তোলেন তিনি। বাম জমানায় অবশ্য টাকা নিয়ে কয়েকজনকে চাকরি করেও দিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল জমানাতেও মাঝেমধ্যেই তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করতেন গোবিন্দবাবু। সবাই মনে করেন, সত্যিই হয়তো চাকরি করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাঁর। এ ভাবেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন গোবিন্দবাবু। কিন্তু তারপর চাকরিও হয়নি, টাকাও ফেরত দেননি তিনি। আর তাই এই প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, টাকা ফেরত দিতে হবে গোবিন্দ বেরাকে।

    আর যাঁকে নিয়ে এত কাণ্ড, সেই গোবিন্দ বেরা কী বলছেন?

    পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে ঠিকাদার বলেন, “আমি বলেছিলাম টাকা ফিরিয়ে দেব। পঞ্চায়েত প্রধানের অফিসে কথা হয়েছিল। তারপরেও ১৫ দিন আগে আমাদের বাড়ি এসে ওরা আমাকে মারধর করেছিল। আবার আজ করল। আমার মাথায় লেগেছে। স্ক্যান করাতে হবে। টাকা ফেরত দেব বলে মুচলেকা দেওয়ার পরেও আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More