মঙ্গলবার, জুন ২৫

রাফায়েল সামনে কে এনেছে, আঁতাত আমরা করি না:  মমতাকে পাল্টা রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার জনসভা থেকে আরএসএস আর কংগ্রেসের মধ্যে যোগসাজসের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে জবাব দিয়ে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ওই উত্তর দিনাজপুরের মাটি থেকেই।

দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অমর রাই-এর সমর্থনে জনসভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী (অধীর চৌধুরী), জঙ্গিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে এবং দার্জিলিং-এর কংগ্রেস প্রার্থীকে (শঙ্কর মালাকার) আরএসএস মদত দিচ্ছে। বিকেলে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাসমুন্সির সমর্থনে করণদিঘিতে জনসভা করতে এসে রাহুল বলেন, “কংগ্রেস বিজেপি-র সঙ্গে কখনও সমঝোতা করেনি। মমতাজি বলছেন, কংগ্রেস বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়ছে না। তাহলে রাফায়েল কেলেঙ্কারি কে সামনে এনেছে।”

শুধু তাই নয়। মমতা যেমন প্রতি জনসভায় গিয়ে কংগ্রেস, সিপিএম আর বিজেপি-কে এক ব্র্যাকেটে ফেলে দিচ্ছেন, ঠিক কর্মসংস্থান ইস্যুতে একই কায়দায় মোদী আর দিদিকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে দিলেন রাহুল। করণদিঘির সমাবেশ থেকে কংগ্রেস সভাপতি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “মোদীজি আপনাদের কর্মসংস্থান দিয়েছে?” উত্তরে জনতার সমস্বরে চিৎকার, ‘না…।’ এরপর রাহুল বলেন, “মমতাজি আপনাদের কর্মসংস্থান দিয়েছেন?” জনতার সেই একই উত্তর, ‘না…।’

অনেকের মতে, রাহুল যে পথ দেখিয়ে দিলেন এ দিন, প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা সেই পথেই আরও  সুর চড়াবেন মমতার বিরুদ্ধে। বিজেপি-র মন্ত্রিসভায় তাঁর থাকা, আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা সবই হয়তো তুলে আনবেন অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানরা।

দুপুর থেকেই করণদিঘির সমাবেশ স্থলে ভিড় উপচে পড়ছিল কংগ্রেস সভাপতির ভাষণ শোনার জন্য। কিন্তু এ দিন রাহুলের কর্মসূচিও ছিল ঠাসা। প্রথমে উত্তরপ্রদেশের অমেঠীতে রোড শো করে মনোনয়ন জমা দেন। তারপর আসেন বিহারের কাটিহারের জনসভায়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আসেন করণদিঘিতে আসেন সনিয়া-পুত্র। রাহুলের হেলিকপ্টার যখন মঞ্চের পাশে নামে তখনই প্রায় বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার অবস্থা। আলো থাকতে থাকতেই বক্তৃতা শেষ করতে হত।  তাই খুব একটা দীর্ঘ বক্তৃতা করেননি তিনি। ভাষণ শেষ করেই ছুট্টে গিয়ে উঠে পড়েন কপ্টারে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ বক্তৃতা না করলেও, যা বলেছেন তাতে মমতাকে চোখা চোখা শব্দেই জবাব দিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা।

রায়গঞ্জ মানেই প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির জায়গা। কংগ্রেসের শক্তিও এখানে যথেষ্ট। গতবার সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের কাছে হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী  তথা প্রিয়-জায়া দীপা। কিন্তু সেটা সুতোর ব্যবধানে। মাত্র ১২৪৪ ভোটে জিতেছিলেন সেলিম। এ বার দীপাকেই সেখানে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। রাহুলও তাঁর বক্তৃতায় প্রিয় আবেগকে উস্কে দেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা এআইএফএফ সভাপতির মৃত্যুর পর এই প্রথম ভোট। ফলে কংগ্রেস নেতৃত্বের আশা, এই ভোটে সেই আবেগ কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল।  বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আজকে বলেছে, রাফায়েলে ঘোটালা আছেই আছে। আর চৌকিদারের মুখ চুপসে গিয়েছে। বক্তৃতা দিতে পারছেন না।” এই ভোটে কংগ্রেসের সরকার হবে বলে রাহুল বলেন, “নতুন সরকার এলেই রাফায়েল মামলায় যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের সাজা হবে।”

যদিও রাহুলের বক্তব্যকে আমল দিচ্ছে না শাসকদল। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “বাংলায় কংগ্রেসের কী আছে? রাহুল এখানে নিজেই বলেছেন, নিজেই শুনেছেন। এখানে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা। একদম একা। সঙ্গে রয়েছে বাংলার মানুষ।”

Comments are closed.