‘দাদা, কংগ্রেসে যোগ দিতে চাই’, লক্ষ্মণের ফোন তুলেই ভূত ভাগালেন মান্নান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএম বহিষ্কার করার পর ‘সাত ঘাটের জল খেয়ে’ এখন কংগ্রেসে ভিড়তে চাইছেন লক্ষ্মণ শেঠ!

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন লক্ষ্মণ। কিন্তু সেটাই যে প্রদেশ কংগ্রেসে একমাত্র প্রবেশ পথ নয় হয়তো ঠাওর করতে পারেননি একদা সিপিএমের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা!

ঘটনাটি ঘটে বিষ্যুদবার বিকেলে। আর পাঁচ দিনের মতোই বিধানসভায় তাঁর ঘরে বসে কাজ করছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান। হঠাৎই অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে তাঁর কাছে। টেবিলে ওপারে তখন বসে কয়েক জন সাংবাদিক।

‘হ্যালো মান্নান দা, লক্ষ্মণ শেঠ বলছি।’ মান্নান সাহেব কানে খাটো নন। তবু প্রথমে ধারনাও করতে পারেননি এই লক্ষ্মণই সেই লক্ষ্মণ! বলেন, কে? ফের জবাব আসে, ‘দাদা লক্ষ্মণ শেঠ বলছি। সোমেনদার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কংগ্রেসে যোগ দিতে চাই।”

কট্টর কংগ্রেসি আবদুল মান্নান। এ কথা শোনা মাত্র যেন তাঁর শরীরে বিদ্যুৎ খেলে যায়! বলেন, ‘আপনি সাহস পেলেন কোথা থেকে আমাকে ফোন করতে! আপনাকে আমরা ভুলে গেছি। কী অত্যাচারই না করেছেন আমাদের ছেলেদের উপর। এমপ্লয়মেন্ট এক্সেচেঞ্জে নাম লেখাতে গিয়ে মার খেয়েছে, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়ে মার খেয়েছে। আপনার লোকেরা কত কংগ্রেসি ছেলে খুন করেছে হিসেব নেই। আর আপনাকে কংগ্রেসে নেব? আমি বেঁচে থাকতে নয়!’

এই বলেই ফোন কেটে দেন মান্নান সাহেব। কিন্তু লক্ষ্মণও নাছোড়। ফের ফোন করেন। কিন্তু দ্বিতীয় বার ফোন করলে তৎক্ষণাৎ ফোন কেটে দেন বিরোধী দলনেতা।

একদা তিনি ছিলেন হলদিয়ার ‘বেতাজ বাদশা’। বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত তাঁর নামে। সেই তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠের এখন কী অবস্থা! তাঁর পুরনো দল তাঁকে বহিষ্কার করেছে আগেই। তারপর তৈরি করেছিলেন ‘ভারত নির্মান মঞ্চ’। সেই দলও টেকাতে পারেননি। ঘুরঘুর করেছিলেন বিজেপি’র পিছনে। বলেছিলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’। কিন্তু বিজেপিতেও সুবিধা করতে না পেরে চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূলে যাতে মাথা গোঁজা যায়।

আরও পড়ুন এ বার ইডি’র তলবে সাধন-কন্যা শ্রেয়া

কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বলতেই বোঝায় শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তৃণমূলে কী করে লক্ষ্মণ শেঠ ঢুকবেন? নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে লক্ষ্মণ একাধিকবার এ কথা বলেওছেন, ‘শুভেন্দুর জন্যই আমি তৃণমূলে ঢুকতে পারছি না।’ গত মাসে পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলের সভা থেকে ইঙ্গিত স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও হার্মাদদের দলে জায়গা দেওয়া হবে না।

সেই লক্ষ্মণ শেঠ এখন নাকি আসতে চাইছেন কংগ্রেসে। আর তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান। সূত্রের খবর, এ কথা সোমেন মিত্রকেও পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন মান্নান সাহেব। ঘরোয়া আলোচনায় তিনি দলে এও বলেছেন, সিপিএম থেকে কোনও রাজনৈতিক কর্মী যদি কংগ্রেসে যোগ দিতে চান, তা হলে তাঁকে স্বাগত জানাব আমরা। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা থাকলেও কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনও হার্মাদ, কোনও সমাজবিরোধীকে দলে নেব না।

একটা সময় প্রচলিত ছিল যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেও পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্যমন্ত্রীর নাম লক্ষ্মণ শেঠ। তিনি যা ইচ্ছে তাই করেছেন। লাল-সন্ত্রাসের নায়ক ছিলেন। পালাবদলের পরেই ডেন্টাল কলেজের জালিয়াতি নিয়ে তাঁকে মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয়। ডেন্টাল কলেজ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাক্তন দল সিপিএমেও তদন্ত কমিশন চলছিল। জেল থেকে জামিন পাওয়ার পরেই দল তাঁকে বহিষ্কার করে।

এরপর কার্যত দাঁত-নখহীন হয়ে পড়েন লক্ষ্মণ। এর মধ্যেই বছর দুয়েক আগে তাঁর স্ত্রী তমালিকা পণ্ডা শেঠের জীবনাবসান হয়। লক্ষ্মণ শেঠ থাকতেন নিমতৌড়িতে সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পার্টি অফিসে। দল বহিষ্কার করার পর সেই আস্তানাও তাঁর চুকে যায়। এই সময়েই আরেক কাণ্ড করে বসেন লক্ষ্মণ।

কী কাণ্ড?

ক্ষমতায় থাকার সময় হলদিয়া, তমলুক, কাঁথি প্রভৃতি এলাকায় সিপিএমের বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হয়েছিল। এর বেশিরভাগটাই ছিল লক্ষ্মণ শেঠের নামে। দেখা যায়, দুর্গাচকের একটা বড় সিটু ( CITU ) অফিস লক্ষ্মণ শেঠ প্রোমোটারকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এহেন লক্ষ্মণ শেঠকে কোন দল নিতে চাইবে?

আবদুল মান্নানের মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ জানেন, লক্ষ্মণ শেঠের মতো লোককে দলে নিলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। কারণ বাম জমানায় যে কয়েকজন নেতা সন্ত্রাসের মুখ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের মধ্যে লক্ষ্মণ শেঠ একেবারে উপরের সারির নাম। সেই কারণেই তিনি হয়তো এ কথা বলেছেন বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

যদিও লক্ষ্মণ শেঠ এ ব্যাপারে বলেন “আমি কংগ্রেসে যোগদানের জন্য আবেদন করিনি। মান্নানদাকে ফোন করেছিলাম। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সঙ্গে নানা সময়ে প্রয়োজনে ফোন করতে হয়। উনিও আমাকে ফোন করেন। আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোনও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়নি।”

এখন কংগ্রেসের বাকিরা কী বলেন, লক্ষ্মণ শেঠ শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে যোগ দেন কিনা সে দিকেই চোখ থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More