রবিবার, আগস্ট ১৮

অস্ত্রে কী ক্ষতি, দেবীর হাতেও তো অস্ত্র: দিলীপ, গদা দিয়ে কী করবে? মাথা ফাটাবে নাকি: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট যুদ্ধের মাঝেই রামনমবীতে অস্ত্র মিছিল নিয়ে বাগযুদ্ধ লেগে গেল তৃণমূল-বিজেপি’র মধ্যে। দিলীপ ঘোষ বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সকালে অস্ত্র হাতে মিছিল করে দিলীপবাবু জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই দেশের রীতি। এ ভাবেই চলবে। দুর্গা, কালীর কাছ থেকে কি আমরা অস্ত্র কেড়ে নেব? ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর শিলিগুড়ির জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-র নাম না করে অস্ত্র মিছিল নিয়ে পাল্টা তোপ দাগেন। তৃণমূলনেত্রী বলেন, গদা দিয়ে কী করবে? মাথা ফাটাবে?

খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপবাবু সক্কাল সক্কাল গদা, তলোয়ার, তির-ধনুক নিয়ে রামনবমী উদযাপনে সামিল হন। তাঁকে অস্ত্র মিছিল নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, এতে কি সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে না? দিলীপ ঘোষের সাফ জবাব, “আমাদের সেনার হাতে তো অস্ত্র থাকে। তাহলে কি সেনারা অস্ত্র নামিয়ে রাখবে? মা দুর্গা, মা কালীর হাতে অস্ত্র থাকে? তাতেও কি প্ররোচনা থাকে?” তাঁর কথায়, “অস্ত্র মানে শক্তি। অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে যুগ যুগ ধরে অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে।”

শিলিগুড়ির জনসভার শুরুতেই রামনবমীর অস্ত্র মিছিল কড়া আক্রমণ শানান মমতা। বলেন, “ধর্মের নামে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে। গদা, তরোয়াল নিয়ে মিছিলে বেরিয়েছে। গদা দিয়ে কী করবে? মাথা ফাটাবে? তরোয়াল দিয়ে কী করবে? গলা কাটবে? এটা বাংলার সংস্কৃতি না।” এরপরই আরএসএস-কে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আরএসএস-এর নাম করে কিছু লোক যা ইচ্ছে করছে। হাতে নিয়েছে ঝাণ্ডা। সঙ্গে নিয়েছে মোটা মোটা ডাণ্ডা। আর জুটিয়েছে কিছু গুণ্ডা। এদের সবাইকে করে দেব ঠাণ্ডা।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্য বারের রামনবমীর থেকে এ বারের রাম নবমীর একটা মৌলিক ফারাক আছে। তাঁদের কথায়, এ বার ভোটের মাঝে রামনবমী। তাই বিজেপি যে মেরুকরণের রাজনীতিকে হাতিয়ার করে এগোচ্ছে, তাকেই আরও তীব্র করার চেষ্টা করবে। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করার ক্ষেত্রে বাংলায় প্রসাশনিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি প্রশ্ন তুলে বলেছে, মহরমের তাজিয়ায় যদি আপত্তি না থাকে তাহলে রামনবমীতে আপত্তি কীসের? পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই প্রশ্ন তুলে আসলে জনমানসে মেরুকরণকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলই নেওয়া হয়েছিল। এবং সেটায় কিছুটা হলেও বাংলায় সফল হয়েছে বিজেপি।

দিলীপবাবু বলেন, “আমরা আমাদের কাজ করব। যাদের পছন্দ হচ্ছে না, সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাদের ভাল লাগা মন্দ লাগার উপর দেশের মানুষের আবেগ পাল্টানো যাবে না।” তিনি এও জানান রামকে নিয়ে এই যে উন্মাদনা, এটাই আসলে উৎসব। যে উৎসবে উন্মাদনা নেই, সেটা কোনও উৎসবই নয়।”

শুধু বিজেপি বললে ভুল হবে। বাদ নেই বাংলার শাসক দলও। রাজ্যের একাধিক জায়গায় রামনবমীর মিছিল করবে তৃণমূল। কলকাতার উত্তর এবং দক্ষিণ দু’প্রান্তেই রামনবমীর শোভা যাত্রা বার করবে তৃণমূল যুব কংগ্রেস।” বিজেপি-র এক নেতার কথায়, “এটাই রামনবমীর মাহাত্ম্য, যে লোক দেখাতে হলেও ঠেলায় পড়ে তৃণমূলকেও এ সব করতে হচ্ছে।”

Comments are closed.