রবিবার, জুন ১৬

শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বেতন বয়কট কম্পিউটার শিক্ষকদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিক্ষের টাকা আর চাই না! পড়াবো, কিন্তু ভিক্ষের বেতন নেব না! এমনই দাবি করছেন রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া ৬ হাজার ৫০০ কম্পিউটার শিক্ষক।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের কাজ করে থাকে ইনফ্রাসট্রাকচার লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড ( Infrastructure Leasing & Financial Services Limited ) ও এক্সট্রামার্কস এডুকেশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড ( Extramarks Education india Private Limited ) নামের দুটি ঠিকা কোম্পানি।

এই কোম্পানি দুটির মাধ্যমেই কম্পিউটার শিক্ষকরা বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু তাঁদের বেতন বাবদ যত টাকা সরকারের কাছে থেকে নেওয়া হয়, তার থেকে অনেক কম টাকা তাঁদের দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। গত ৬ বছর ধরে চলে আসছে কম্পিউটার শিক্ষকদের এই প্রতিবাদ। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের মাত্র ৪ হাজার ৭০০ টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁদের দাবি, ১০ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হোক তাঁদের।

এই দাবি নিয়েই লোকসভা ভোটের আগে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসেছিলেন কম্পিউটার শিক্ষকদের সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আইসিটি স্কুল কম্পিউটার টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। জানা গিয়েছে, তখন পার্থবাবু তাঁদের বেহালার ম্যান্টনে নিজের অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলেন, ভোট মিটে গেলে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনায় বসবে রাজ্য সরকার। যদি সত্যিই কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকে, তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পরেও কোনও পদক্ষেপ না দেখে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ফের অবস্থানে বসেন কম্পিউটার শিক্ষকরা। কিন্তু তাঁরা অভিযোগ করেছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি, ফোনও তোলেননি। বাধ্য হয়ে মিন্টো পার্কে ওই ঠিকা সংস্থার অফিসে গিয়ে নিজেদের দাবি জানালে তাঁদের পুলিশকে দিয়ে মার খাওয়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।

ওয়েস্ট বেঙ্গল আইসিটি স্কুল কম্পিউটার টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর আহ্বায়ক বিকাশ সোনকর জানিয়েছেন, “এই পরিস্থিতিতে না রাজ্য সরকার না ওই ঠিকাদার সংস্থা কেউ আমাদের দাবি মানছে না। সরকারি মেমোরান্ডাম দেখলেই বোঝা যাবে, ১৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা লুঠ করছে ওই ঠিকাদার কোম্পানি। তাই আমরা ঠিক করেছি, যখন এতদিন আমাদের ন্যায্য বেতন দেওয়া হলো না, তখন ওই ভিক্ষের ৪ হাজার ৭০০ টাকা আমদের চাই না। তাই আমরা ঠিক করেছি, ওই টাকা আমাদের চাই না। আমরা পড়াবো। কিন্তু বেতন নেব না। দেখি কতদিন রাজ্য সরকার চুপ করে থাকে।”

Comments are closed.