যে যেখানে পারছে লোক ঢোকাচ্ছে, কিছুই জানতে পারছি না, তীব্র ক্ষোভ মুখ্যমন্ত্রীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ হচ্ছে, অথচ অর্থ দফতর নাকি কিছু জানতেই পারছে না। বিশেষ করে রাজ্যের পুরসভাগুলিতে এই প্রবণতা বেশি হচ্ছে বলে হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার হাওড়া শরৎ সদনে হাওড়ার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কলেজগুলো আর পুরসভাগুলো লোক নিয়ে নিচ্ছে। আর সে গুলো আমাদের ঘাড়ে এসে পড়ছে।” সরকারি আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধি—সকলের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুমদাম করে লোক নেবেন না। একটা লোক নিয়োগ করতে গেলেও অর্থ দফতরের অনুমোদন লাগে। আমি যে কোনও করলে অর্থ দফতরের অনুমোদন নিই।” মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি এরপর এ সব করলে কোর্ট-কেস-কাছারি হবে।”

    প্রশাসনিক বৈঠকের মাঝেই পুরমন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ববি, এরা অনুমতি নিয়েছিল?” উত্তরে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “দিদি, এঁদের কশান লেটার (সতর্ক করে চিঠি) দেওয়া হয়েছে।” পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কশান লেটার দিলেও তো শুনছে না। এ বার অ্যাকশন নাও। চেয়ারম্যান হলে, কাউন্সিলর হলে যা ইচ্ছে তাই করা যায় না।”

    হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীকেও তীব্র ভর্ৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “তোমরা যাওয়ার আগে ৪০০ লোক নিয়ে নিলে। তারা আমার ঘাড়ে এসে পড়ল। আমার বাড়ি চলে যাচ্ছে। তোমরাই পাঠাচ্ছ।” মাস দুয়েক আগেই এই অস্থায়ী কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল হাওড়া কর্পোরেশন। দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও হয়ে থাকতে হয়েছিল কমিশনার বিজিন কৃষ্ণনকে। এ দিন রথীনবাবুকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লোক নিয়েছ আর অনুমতি নাওনি কেন? এটা বেআইনি। এঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমরা ছিনিমিনি খেলছ।” জবাবে রথীনবাবু বলেন, “দিদি আপনিই তো ভারবালি (মৌখিক ভাবে) বলেছিলেন।” এই কথা শুনেই রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী। ধমক দিয়ে বলেন, “সরকারের কাজে ও সব ভারবাল টার্বাল বলে কিছু হয় না। ডোন্ট ইউজ মাই নেম। এ সব বলবে না।”

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এ দিন মুখ্যমন্ত্রী দুটি বিষয় কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এক, বিভিন্ন পুরসভায় অস্থায়ী লোক নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অনেকেরই বক্তব্য, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিরা যোগ্যতার থেকেও বেশি গুরুত্ব দেন কে তাঁর অনুগত সে ব্যাপারে। এ নিয়ে জনমানসে ক্ষোভও রয়েছে। সেটাকে আটকাতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা যদি তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হয়, তাহলে প্রশাসনিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেমন ইচ্ছে তেমন করা আটকানো।

    এখন দেখার দিদির কথা কতটা শোনেন তাঁর কাউন্সিলর ভাই-বোনেরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More