বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ, বাংলার কয়লাখনিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: কয়লাখনি বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলির ডাকে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের খনি ধর্মঘট। এদিন সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনিগুলিতে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ছবি দেখা গিয়েছে। আসানসোল, কুলটি, সালানপুর-সহ বাংলার খনি অঞ্চলের সর্বত্রই দেখা গিয়েছে ধর্মঘটের ছবি। দু’একটি খনিতে হাতে গোনা শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। অধিকাংশ খনিতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে উৎপাদন।

সিআইটিউ, এআইটিইউসি ছাড়াও এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিউসি। তাৎপর্যপূর্ণ হল আরএসএস-এর শ্রমিক শাখা ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘও এই ধর্মঘটে সামিল হয়েছে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির ডাকে সারা দেশে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকা হয়।

গত ১৮ জুন কয়লা খনি বেসরকারিকরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপ আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা নেবে। কয়লাখনি গুলিতে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা লকডাউন শেষ হল বলে মন্তব্য করেছিলেন মোদী।

তিনি আরও বলেন, “কয়লা সবার জন্য। তাই কয়লার বাজার খোলা হল। সব ক্ষেত্রকে সাহায্য করবে এই কয়লাক্ষেত্র।” এই নিলাম পদ্ধতিতে কয়লাখনির ক্ষেত্রে অর্থ ও প্রযুক্তির বিনিয়োগ ঘটবে বলেই আশা প্রধানমন্ত্রীর। প্রাথমিক ভাবে ৪১টি কয়লা খনিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।

ইতিমধ্যেই ধর্মঘট প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন ইসিএলের সিএমডি প্রেমসাগর মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, “শ্রমিক সংগঠনগুলি যে কেন্দ্রীয় নীতির বিরোধিতা করে ধর্মঘট করছে তার সঙ্গে ইসিএলের কোনও সম্পর্ক নেই। ইসিএলের কোনও কোলব্লকই নিলাম হচ্ছে না। বরং দেশের তাপ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইসিএলকে ৩ টি নতুন কোলব্লক দেওয়া হয়েছে। এই ৩ টি নতুন কোলব্লক চালু হলে ইসিএল অধ্যুষিত এলাকায় সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে।”

যদিও শ্রমিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, এটা অনেক বড় লড়াই। এটা শুধু ইসিএলের শ্রমিকদের লড়াই নয়। সিটু নেতা কৌশিক হালদার ব্লেন, “আজ অন্য খনিগুলিকে বেসরকারি হাতে তুলে দিচ্ছে কাল ইসিএলকেও দেবে।” তিনি আরও বলেন, “বেসরকারি হাতে খনি তুলে দিয়ে মোদী সরকার আসলে লুঠের বন্দোবস্ত করতে চাইছে। শ্রমিকরা তার প্রতিবাদ করছেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More