বুধবার, জুন ১৯

কৃষকের জন্য কল্পতরু দিদি, মৃত্যুতে দু’লক্ষ, চাষের জন্য পাঁচ হাজার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ৭২ লক্ষ কৃষকদের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মাঝে দাঁড়িয়েও সরকার কৃষকদের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর জন্য বছরে রাজ্য সরকারের কয়েকশ কোটি টাকা খরচ হবে বলেও জানান মমতা।

কী আছে এই প্রকল্পে?

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে সেই পরিবার পাবে দু’লক্ষ টাকা। দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু, যে কারণেই মৃত্যু হোক না কেন, কৃষক পরিবারকে ওই টাকা দেবে সরকার। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, একর প্রতি চাষের জন্য ৫ হাজার টাকা দেবে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের পয়লা তারিখ থেকেই কৃষকরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যে কৃষক অসন্তোষই বিজেপি-র গদি টলিয়ে দিয়েছে। ঋণ মুকুব থেকে ফসলের ন্যায্য মূল্য-সহ একাধিক দাবিতে একের পর এক কৃষক আন্দোলন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং রাজস্থানের গদি থেকে গেরুয়া শিবিরকে সরয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনেক ইস্যু থাকলেও, কৃষক অসন্তোষই মুখ্য হয়ে উঠেছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৯ ভোটের বছর। এমনিতেই এ রাজ্যে বিজেপি থাবা বসাতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করতে চাইছে। এর মধ্যে যাতে কৃষক অসন্তোষ না তৈরি হয়, তা রুখতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

কয়েকদিন আগেই খাদ্যমন্ত্রী এবং একাধিক আমলাদের নিয়ে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, ধান বিক্রির সময় যেন কোনও ফোড়েরা উৎপাত না করতে পারে। দিদি বলেছিলেন, “সীমাবদ্ধ আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে আমরা এক্ষুণি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) বাড়াতে পারছি না। কিন্তু কৃষকরা যাতে সরকার নির্ধারিত কুইন্টাল প্রতি ১৭৫০ টাকা হাতে পায় তার ব্যবস্থা করা হবে।” জেলাশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, ধান বিক্রির কেন্দ্র বাড়াতে। সেখানে লোক নিয়োগের ভার দেওয়া হয় তাঁর উপর।

আগেই কৃষি কৃষি খাজনা এবং মিউটেশন ফি ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য। এ বার ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Comments are closed.