জামালপুরে রেশন কার্ডহীন দরিদ্রদের পাশে স্থানীয় ক্লাব, বিনামূল্যে খাবার কয়েকশো মানুষকে

কার্ড না থাকায় শুড়েকালনা ও আশপাশের তিন-চারটি গ্রামের বহু মানুষ সরকারি রেশন পাচ্ছেন না। তাঁদের জন্য়ই এই উদ্যোগ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি রেশন দোকানের মতো বেসরকারি রেশন দোকান খুলে বসেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের একটি ক্লাব। এখানে সেই সব গরিব মানুষ রেশন পাচ্ছেন যাঁদের রেশন কার্ড নেই। কেউ কার্ড হারিয়ে ফেলেছেন। কারও কার্ড নষ্ট হয়ে গেছে আবার কারও কোনও দিন রেশন কার্ড ছিলই না।

    লকডাউনের মধ্যে জামালপুরে এই বেসরকারি ‘রেশন দোকান’ থেকে চাল, আটা প্রভৃতি পাচ্ছেন সরকারি রেশন কার্ড না থাকা গরিব-দুঃস্থরা। জামালপুরের সঙ্ঘশ্রী ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে খোলা হয়েছে এই বিনামূল্যের দোকান। এমন দোকানের কথা যে শুনছে সেই অবাক হয়ে যাচ্ছে।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের জন্য জারি হয়েছে লকডাউন। ২২ মার্চ থেকে রাজ্যে টানা লকডাউন চলছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মূলত দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন ও শ্রমিকরা। তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকের সরকারি রেশন কার্ড নেই। তাই এই কঠিন সময়ে তাঁরা রেশন দোকানের খাদ্যসামগ্রী থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

    এমন বহু হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সঙ্ঘশ্রী ক্লাবের সদস্যরা চালু করেছেন বিনা পয়সার বেসরকারি রেশন দোকান। লকডাউনের মধ্যে সেই রেশন দোকান থেকে কয়েকশো গরিব মানুষ দু’দফায় খাদ্য সামগ্রী পেয়েছেন। ক্লাবের সম্পাদক পাঁচুগোপাল আধিকারী বলেন, “লকডাউন চলায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ওই সব গরিব পরিবারের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার রেশন দোকান থেকে বিনা পয়সায় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ঠিকই কিন্তু শুড়েকালনা ও আশপাশের তিন-চারটি গ্রামের বহু মানুষ সরকারি রেশন পাচ্ছেন না।” তাঁর কথায় এই সব দরিদ্রদের অনেকেরই রেশন কার্ড নেই। আবার কারও তা হারিয়ে গেছে। এমন অনেকে আছেন যাঁরা আবেদন করলেও এখনও রেশন কার্ড হাতে পাননি।

    পাঁচুগোপাল অধিকারীর কথায়, “আমাদের এলাকার এই ধরনের পরিবারের সদস্যরা লকডাউনের মধ্যে অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন। এই মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে সঙ্ঘশ্রী ক্লাবের পক্ষ থেকে রেশন দোকানের অনুকরণে খাদ্য সামগ্রী দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” ক্লাবের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ পাল বলেন, “সরকারি রেশন দোকান থেকে খাদ্য সামগ্রী পাচ্ছেন না এলাকার এমন কয়েকশো মানুষকে আমরা চিহ্নিত করি। তাঁদের জন্য খাদ্য সামগ্রী জোগাড় করেছি। এই কাজে শুড়েকালনা এলাকার অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।”

    দিন পনেরো আগে ক্লাবঘরের সামনে প্রথম রেশন দোকানের অনুকরণে তাঁরা পাঁচ কেজি চাল, আটা, নুন, বিস্কুট, সয়াবিনের প্যাকেট, রান্নার মশলা প্রভৃতি সাজিয়ে বসেন সদস্যরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই দিন এক এক করে ১০৩টি গরিব পরিবারের হাতে সেগুলি তুলে দেওয়া হয়।

    শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় একই ভাবে ৭২ জন গরিব মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হলে একই ভাবে রেশন কার্ড না থাকা মানুষের হাতে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার এই কাজের প্রশংসা করেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More