বিধানসভায় হাতাহাতি মন্ত্রী-বিধায়কের, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ধুন্ধুমার

এদিন বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপরে আলোচনা ছিল। অধিবেশনের শুরুতে দেখা যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিনয় বর্মন ও পুর্ণেন্দু বসু—এই তিনজন মন্ত্রী উপস্থিত আছেন। কংগ্রেস বিধায়ক মনোজবাবু তখন চিৎকার করে বলেন, রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনা হবে আর তিনজন মন্ত্রী? বাকিরা সব গেলেন কোথায়?  

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভার অধিবেশন নাকি কুস্তির আখড়া! নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। মন্ত্রী তাপস রায় বনাম বহরমপুরের কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীর মধ্যে হাতাহাতি লেগে গেল অধিবেশন কক্ষেই। তুমুল বিতণ্ডায় থমকে গেল অধিবেশন। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিৎকার আর দু’পক্ষের বিধায়কদের হস্তক্ষেপে হাতাহাতি থামলেও তুমুল হট্টগোলে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বাম-কংগ্রেস বিধায়করা।

    কী নিয়ে গণ্ডগোল?

    এদিন বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপরে আলোচনা ছিল। অধিবেশনের শুরুতে দেখা যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিনয় বর্মন ও পূর্ণেন্দু বসু—এই তিনজন মন্ত্রী উপস্থিত আছেন। কংগ্রেস বিধায়ক মনোজবাবু তখন চিৎকার করে বলেন, রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনা হবে আর তিনজন মন্ত্রী? বাকিরা সব গেলেন কোথায়?

    এই সময়েই অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী তাপস রায়। বরানগরের বিধায়কের উদ্দেশে মনোজবাবু কটাক্ষের সুরে বলেন, “তাপস তুমি পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী। তাও এত দেরি!” এতেই চটে যান তাপসবাবু। এরপর তাঁর দিকে তেড়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে এগিয়ে যান মনোজ। তারপরই হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয় বিধানসভায়।

    এই ঘটনা যখন ঘটছে তখন বাঁকুড়ার কর্মিসভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রী না থাকার কারণেই এদিনের অধিবেশনে শাসকদলের বিধায়ক, মন্ত্রীদের মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যায়।

    তাপস বনাম মনোজের যখন তুমুল গণ্ডগোল চলছে তখন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর হাসনের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রসিদ বলেন, “মন্ত্রীরা এমন মারামারি করলে বিধায়করা কী শিখবে!”   উত্তেজনা কিছুটা থামে। কিন্তু মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলেন বাম-কংগ্রেস বিধায়করা। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মনোজবাবু পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রীকে বলেছেন, দেরি হল কেন? তাতেই কী প্রতিক্রিয়া আপনারা দেখলেন। আমার মনে হয় স্পিকার আপনি বলুন মন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে।” তা না মানলে ওয়াক আউট করে অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান তাঁরা।

    কয়েক বছর আগে বিধানসভায় রীতিমতো মারামারি হয়েছিল অধিবেশনের মধ্যেই। চিটফান্ড নিয়ে আলোচনা চাওয়ায় শাসক বিধায়কদের হাতে মার খেয়েছিলেন বাম বিধায়ক দেবলীন হেমব্রম এবং গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়। এদিন ফের একবার সেই স্মৃতি ফিরল বিধানসভায়।

    এরপর কংগ্রেসের নেপাল মাহাতো, সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীদের নিজের ঘরে ডাকেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে ছিলেন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। বিরধীরা দাবি করেন, ওই ঘটনা অনভিপ্রেত বলে পার্থবাবুকে কক্ষে গিয়ে বিবৃতি দিতে হবে। এরপর পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিলে বাম-কংগ্রেস বিধায়করা ফের অধিবেশনে যোগ দেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More