বুধবার, অক্টোবর ১৬

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র আলিপুরদুয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : বদলালো না আলিপুরদুয়ারের ছবিটা। ফের ছেলেধরা সন্দেহে বেধড়ক পেটানো হলো এক ব্যক্তিকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন এলাকার মানুষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট-পাথড় ছোঁড়া হলো। লাঠি চালালো পুলিশও। সব মিলিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।

ঘটনাটি আলিপুরদুয়ারের কালচিনির দলসিংপাড়ার। সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে এক ব্যক্তিকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় কালচিনি থানার পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। জানা গিয়েছে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট-পাথড় ছুঁড়তে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ। পাল্টা লাঠি চার্জ করে পুলিশ। সাত রাউন্ড কাদানে গ্যাস ছোড়ে তারা। জানা গিয়েছে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা মিলিয়ে জখম হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

এই ঘটনার পর থেকে থমথমে হয়ে রয়েছে এলাকার পরিবেশ। মুখে কুলুপ এটেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও অনেকবার এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে এই জেলায়। এর আগে পাটকাপাড়া, কালচিনি ও শামুকতলাতে ছেলে ধরা সন্দেহে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পাটকাপাড়াতে একই কায়দায় ছেলেধরা সন্দেহে আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকে আক্রান্ত হতে হয়েছিল। তারপরে কালচিনি ও শামুকতলা এলাকায় ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা গুজবের বিরুদ্ধে জন সচেতনতা ছড়িয়েছে। কিন্তু সেই জন সচেতনতা যে কার্যত কোনও কাজেই লাগেনি এ দিনের ঘটনা তা প্রমাণ করল।

পুলিশ সূত্রে খবর, ছেলেধরা সন্দেহে আক্রান্ত ব্যক্তি মাদারিহাটের রাঙ্গালিবাজনা এলাকার বাসিন্দা। তবে তাঁর নাম এখনও জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি বলেন, “একজন ব্যক্তিকে ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় মানুষেরা মারধর শুরু করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পাল্টা পুলিশকে আক্রমণ করা হয়। যদিও আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা সাতজনকে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

Comments are closed.