সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ছেলেরা, থানায় অভিযোগ দায়ের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃদ্ধ বাবা-মা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তিন ছেলের কাছে। তাই সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়ে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ছেলেরা। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর কখনও গাছতলায়, কখনও বা বাসস্ট্যান্ডের প্রতীক্ষালয়ে রাত কাটিয়েছেন তাঁরা। অবশেষে এক সমাজকর্মীর সাহায্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। দুই ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থানার কুদভেড়ি গ্রামে। কলকাতা কর্পোরেশনের প্রাক্তন কর্মী ননীগোপাল দাস ও তাঁর স্ত্রী গৌরীরাণী দাসের তিন ছেলে। বড় ছেলে রবীন্দ্র দাস রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করেন। মেজ শচীন্দ্র ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। আর ছোট ছেলে হরেন্দ্র হোটেল কর্মী। তিনজনের অবস্থায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কিন্তু বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছিলেন না কেউ।

    অবশেষে ঠিক হয় তিন ছেলের কাছেই কিছুদিন করে থাকবেন বাবা-মা। প্রথমে মেজো ছেলে শচীন্দ্রর বাড়িতে তাঁরা ছিলেন। সেই সময় একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন ননীগোপালবাবু। তাঁর চিকিৎসা করিয়ে চার মাস পরে বড় ছেলের কাছে চলে যেতে বলেন মেজো ছেলে। বড় ছেলের কাছে বছরখানেক থাকেন তাঁরা। কিন্তু ছোট ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অভিযোগ তুলে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেন বড় ছেলে। তারপর ছোট ছেলের কাছে থাকা শুরু করেন তাঁরা। সেইসময় অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। তখন নাকি চিকিৎসার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে ঘরবাড়ি লিখিয়ে নেন ছোট ছেলে। তারপর সুস্থ হওয়ার পর আরও কিছু জমি লিখে দিতে বলেন বাবা-মাকে। তাঁরা রাজি না হলে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর ননীগোপালবাবু ও গৌরীদেবী কাঁথি থানা মাঠের সামনে একটি দোকানে বসেছিলেন। তাঁদের সেখানে কাঁদতে দেখে সমাজসেবী কণিষ্ক পন্ডা জিজ্ঞেস করে সবকিছু জানতে পারেন। তিনি মহকুমাশাসকের কাছে তাঁদের নিয়ে যান। মহকুমাশাসক শুভময় ভট্টাচার্য কাঁথি থানার আইসিকে নির্দেশ দেন বৃদ্ধ দম্পতিকে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ছেলেদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    তারপরেই পুলিশ তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। মেজ ছেলে শচীন্দ্র দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তিনি প্রয়োজনে বাবার দেওয়া সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে রাজি। বড় ও ছোট ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাঁথি থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    পুলিশের কাছে ননীগোপালবাবু জানিয়েছেন, “ছেলেদের কথা মতো ওদের কিছু সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলাম। এরপর ওরা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করলে গ্রামে সালিশি সভা ডাকা হয়। আমাদের আলাদা থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেইমতো আমরা আলাদা একটা ঘরে বুড়োবুড়ি থাকতাম। নিজেরাই রান্না করে খেতাম। রবিবার ছোট ছেলে ও বৌমা এসে ওই ঘর থেকে সব জিনিস ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দেয়। খুনের খুমকি দিয়ে মারধর করে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপরেই আমরা গাছতলায় আশ্রয় নিই।“

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More