রাজ্যে রোজ ২৫ হাজারের বেশি টেস্ট হচ্ছে, মৃত্যুহার কমে দাঁড়িয়েছে ২.২ শতাংশ, পরিসংখ্যান দিলেন মুখ্যসচিব

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার স্বাস্থ্যভবনের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮০০। মারা গিয়েছেন ১৮৪৬ জন। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমাগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে চাপ দিচ্ছে বিরোধীরা। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাজ্যের সার্বিক চিত্র তুলে ধরলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে মুখ্যসচিব বলেন, রাজ্যে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১০ লক্ষ ২৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন রাজ্যে ২৫ হাজারের বেশি টেস্ট হচ্ছে বলে জানান তিনি। এই মুহূর্তে রাজ্যে ১০৪৩ জনের অল্প সংক্রমণ রয়েছে ও ১৯৪৬ জনের মৃদু সংক্রমণ রয়েছে। সংকটজনক অবস্থায় ১১৪৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজীব সিনহা।

রাজ্য সরকারের টেলিমেডিসিন পরিষেবার প্রশংসা শোনা যায় মুখ্যসচিবের মুখে। মুখ্যসচিব বলেন, যাঁরা উপসর্গহীন তাঁরা বাড়িতেই থাকুন। টেলিমেডিসিনের সাহায্যে তাঁদের সবরকমের সাহায্য করা হবে। ইতিমধ্যেই টেলি-সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে। গতকালই এই পদ্ধততে ১২৩৮ জনকে ফোন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। টেলিমেডিসিন পরিষেবায় আরও একটি নম্বর চালু করেছে সরকার। সেই নম্বর হল- ৪০৯০২৯২৯। এই নম্বরে ফোন করলে সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া রাজ্য সরকারের টেলিমেডিসিনের হেল্প লাইন নম্বর হল ২৩৫ – ৭৬ – ০০১। আরও একটি হেল্প লাইন নম্বর চালু করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। সেটি হল ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২।

মুখ্যসচিব আরও জানান, এই মুহূর্তে রাজ্যে কোভিড বেড বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৫৬০। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় প্লাজমা ব্লাড ব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। এর সঙ্গে কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ককে কাজে লাগানো যায় কিনা সেটাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে রাজ্যে সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৭০.৪ শতাংশ। মৃত্যুহার কমে হয়েছে ২.২ শতাংশ। তার মধ্যে ৮৭.৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে কো-মর্বিডিটির জন্য। এই মুহূর্তে মোট আক্রান্তের ১৮ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, রাজ্যের ৭০ শতাংশ মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালে দেরি করে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। তাই অক্সিজেন লেবেল ৯০-এর কম হলেই হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই তথ্য দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সুস্থতার হার সত্যিই ইতিবাচক। তার জন্য কোভিড ওয়ারিয়র অর্থাৎ স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রশংসা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজ্যের টেলিমেডিসিন পরিষেবারও প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, শহরে অনেক আবাসনে দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা একা রয়েছেন। আবাসনে বাইরের লোক সাহায্যের জন্য ঢুকতে পারছে না। আবার তাঁরা আবাসনের ভিতর থেকেও সাহায্য পাচ্ছেন না। তাই অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। এটা যাতে না হয়, তার জন্য পুরসভাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আবাসন এরকম কতজন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছেন তা সার্ভে করে দেখতে হবে। টেলিমেডিসিনের আওতায় তাঁদের জন্য পৃথক নম্বর চালু করতে বলেন তিনি। হাউজিং কমপ্লেক্স কমিটিগুলিকেও দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More