উনি লম্বা লোক, ৮ ফুট, আমরা ৫ ফুট, ছোটখাটো, রাজ্যপালকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের মধ্যেও নবান্ন-রাজভবন সংঘাত জারি রয়েছে। ক’দিন আগেই রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থায় বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তারপর কেন্দ্রের আন্তঃমন্ত্রক দলের বাংলায় আসা নিয়ে.রাজ্যপাল বলেছিলেন, সরকারের সাহায্য করা উচিত। বুধবার তার প্রতিক্রিয়াতেই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁর কথা নিয়ে আমি কিছু বলব না। উনি লম্বা লোক। আমরা ছোটখাটো। উনি আট ফুট। আমরা পাঁচ ফুট।”

    আরও পড়ুন: বাংলায় টেস্ট কম হয়নি, কেন্দ্রের কিটই খারাপ: ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপুর্যুপুরি চিঠির পরে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় দলকে এলাকা পরিদর্শন করতে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তা যে রাজ্য সরকার আন্তরিক ভাবে করেনি তা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা আইসিএমআরের পাঠানো করোনা টেস্ট কিট ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিযোগ করার সময়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু বড় বড় কথা বলে একে ওকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলার লোকেরা খেতে পাচ্ছে, স্নান করতে পারছে কিনা দেখে এসো!”

    রাজভবনের দায়িত্ব নিয়ে যবে থেকে ধনকড় বাংলায় এসেছেন তবে থেকে সংঘাত চলছে। একবার তো রাজ্যপালকে সরাসরি বিজেপির মুখপাত্র বলেও মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অতিমহামারীর পরিস্থিতিতেও তার কোনও পরিবর্তন হয়নি।

    বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, দেশের সব রাজ্য যখন রাজনীতি সরিয়ে রেখে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে তখন করোনা সরিয়ে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার রাজনীতিই করে যাচ্ছে। রাজ্য বিজেপির এক মুখপাত্রের কথায়, “রাজস্থানে তো কংগ্রেসের সরকার। কই সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী তো কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে এই আচরণ করেননি। বরং ভিডিও কনফারেন্স করে কথা বলেছেন। কিন্ত এখানে সেসবের বালাই নেই।”

    আবার বাংলার শাসক দলের নেতাদের বক্তব্য, রাজ্যপাল রাজ্যের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকেও রোজ উঠতে বসতে যে ভাবে সরকারের দোষ খুঁজতে চালুনি নিয়ে বসছেন, তাতে তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকট হয়ে পড়ছে। মানুষ বুঝতে পারছেন, সরকারের পাশে থাকার পরিবর্তে অস্থির করে রাখাটাই ওনার লক্ষ্য। তাই ছুতোনাতা নিরন্তর খুঁজে চলেছেন উনি। আর কেন্দ্র কিছু বললেই ভগবান জ্ঞান করে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশে বাংলায় ভোট আসছে। তার আগে করোনা সংকটের পরিস্থিতিতেও বাংলায়-শাসক বিরোধী উভয়ের ভূমিকাতেই রাজনীতির ছায়া থাকছেই। কারণ, যুযুধান দু’পক্ষই মনে করছেন, আজ যা ঘটছে তার প্রভাব একুশের নির্বাচনে পড়তে বাধ্য। তাই এই শঠে শাঠ্যং আগামী দিনে বাড়বে বই কমবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More