বুধবার, অক্টোবর ১৬

ফের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক নিগ্রহের অভিযোগ, রোগী মৃত্যুকে ঘিরে এসএসকেএম-এ ধুন্ধুমার

  • 1
  •  
  •  
    1
    Share

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগী মৃত্যুর পর ফের ভাঙচুর হাসপাতালে। আবারও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিগ্রহের অভিযোগ উঠল রোগীর পরিজনদের বিরুদ্ধে। এ বার এসএসকেএম।

সোমবার রোগী মৃত্যুকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে এসএসকেএম চত্বর। অভিযোগ, হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় মৃতের আত্মীয়রা। এর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকদের উপরেও চড়াও হয় তারা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ১৫ জুলাই কিডনিতে সমস্যা নিয়ে নেফ্রোলজি বিভাগে ভর্তি হন ১৮/৩এ মোমিনপুরের বাসিন্দা মহম্মদ সাকির (৩০)। ভর্তির সময়েই তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল। যুবকের কিডনির ৭৫ শতাংশ বিকল হয়ে গিয়েছিল। চলছিল ডায়ালিসিস। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরেই শুরু হয় গণ্ডগোল। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলে মৃতের পরিবার। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগও ওঠে রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এমনকী হাসপাতালে ভাঙচুরও চালায় তারা। এই ঘটনায় মহম্মদ সাজিদ নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করেছে পুলিশ।

আটক মহম্মদ সাজিদ মৃতের ভাই। ঘটনার সময় তিনিই ছিলেন ওয়ার্ডে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপর চড়াও হন তিনি। চিকিৎসককে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি সাজিদ নার্সদেরও নিগ্রহ করেন বলে অভিযোগ। মৃত যুবককে যিনি দেখছিলেন সেই ডাক্তার জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। পরিবারকে সে কথা জানানোও হয়। প্রতিদিন রোগীর শারীরিক অবস্থার আপডেট জানানো হতো পরিবারকে। সোমবার সকালের এই ঘটনার পর এসএসকেএম ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন নিগৃহীত চিকিৎসক।

মাস দুই আগেই রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এনআরএস হাসপাতাল চত্বর।

গত ১০ জুন বিকেলে এনআরএস হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৮৪ বছর বয়সী রোগী মহম্মদ সইদের। চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মারা গিয়েছে বলে অভিযোগ করে চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন রোগীর পরিজনেরা। এর মধ্যেই ট্রাক ভর্তি জনগণ এসে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁদের। এই ঝামেলার মুখে পড়েই মাথায় সজোরে ইটের আঘাত লাগে জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের। মাথার খুলি ফেটে যায় তাঁর। ক্ষোভে বিদ্রোহে ফেটে পড়েন গোটা রাজ্যের চিকিৎসকেরা। শুরু হয় আন্দোলন।

দীর্ঘ সাতদিন আন্দোলন চলার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল। বেরোয় সমাধান সূত্র। আন্দোলন তুলে নেন ডাক্তাররা। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কড়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চিকিৎসকদের উপর রোগীর পরিজনদের নিগ্রহ হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও করে সরকার। অভিযোগ জানানোর জন্য চালু হয় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অ্যাপ। কিন্তু তারপরেও ফের চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা ঘটল শহরেরই এক সরকারি হাসপাতালে।

Comments are closed.