বুধবার, অক্টোবর ১৬

কংগ্রেস নেতার বাড়ির কুয়ো থেকে হাড়গোড় উদ্ধার, চাঞ্চল্য শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি : এক কংগ্রেস নেতার বাড়ির কুয়ো থেকে কঙ্কাল উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ালো শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ায়। ওই নেতার মা গত দু’বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। এই কঙ্কাল তাঁরই কিনা তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। অবশ্য এই ঘটনায় প্রতিবেশীর দিকে আঙুল তুলেছেন ওই নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত ১৩ জুন ওই নেতা, বিমলেশবাবুর বাড়ির লোকেরা কুয়োতে কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে। সোমবার শিলিগুড়ি থানা থেকে পুলিশের একটা দল সেখানে যায়। নিয়ে আসা হয় ডুবুরি। প্রথমে পাম্প করে কুয়োর জল তুলে ফেলা হয়। তারপর বালতি দিয়ে ভিতর থেকে মাটি তুলে আনা হয়। এই সময়ই বালতির সঙ্গে বেরিয়ে আসে হাড়গোড়। আরও মাটি তুলে আনা হলে মাথার খুলিও পাওয়া যায়। পাওয়া যায় একটি চশমার ফ্রেম ও ব্যাগ।

তারপরেই সন্দেহ বাড়ে বিমলেশবাবুর পরিবারের। এই হাড়গোড় তাঁর মায়ের কিনা, তা জানার জন্য সেগুলি ডিএনএ পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। এ দিকে বিমলেশবাবু শিলিগুড়ি থানায় গিয়ে তাঁর প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর সন্দেহ, বাড়ি হাতানোর জন্যই এ সসব করেছেন তাঁর প্রতিবেশই।

জানা গিয়েছে, দেশবন্ধুপাড়াতে বাড়ি করার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশী ত্রিবণ শিকদারের ঝামেলা। এর মধ্যে ২০১৭ সালের অগস্ট মাসে নিখোঁজ হয়ে যান বিমলেশবাবুর মা শেফালি দেবী। তখনই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বিমলেশবাবু। প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে তাঁর সন্দেহের কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক খোঁজাখুজির পরেও তাঁর মায়ের খোঁজ মেলেনি। এ দিন তাঁর কুয়ো থেকে হাড়গোড় উদ্ধারের পর ফের ত্রিবণবাবুর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের সামনে বিমলেশবাবু বলেন, “বাড়ি বানানোর পর থেকেই প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের গণ্ডগোল। তিনি আমাকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। আমি পুলিশকে আগেই সব জানিয়েছিলাম। ১৩ জুন সকালে কুয়োতে শব্দ পাওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে দেখেছিলাম ত্রিবণবাবু কুয়োর কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। তখন অতটা গুরুত্ব না দিলেও এখন সন্দেহ হচ্ছে। ডিএনএ রিপোর্ট সামনে এলেই সব বোঝা যাবে।” বিমলেশবাবুর প্রতিবেশী ত্রিবণ শিকদার অবশ্য বাড়ি ছিলেন না। তাঁর পরিবারের এক সদস্য চন্দনা দে বলেন, “মিথ্যে অভযোগ করা হচ্ছে। ত্রিবণবাবু কলকাতায় আছেন। পুলিশ তদন্ত করলেই সব সত্যি সামনে আসবে।”

Comments are closed.