রবিবার, মার্চ ২৪

হামলার সময় ছিলেন অন্য ট্রাকে, বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে গেলেন চন্দ্রকোণার মঙ্গল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন। ভ্যালেন্টাইনস ডে। কিন্তু এই ভালোবাসার দিনটা আক্ষরিক অর্থেই ‘কালো দিন’ হিসেবে নেমে এসেছিল ভূস্বর্গের বুকে। এ দিন সকালেও হয়তো ফোনে প্রিয়জনকে ভ্যালেন্টাইনস ডে’র শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন পুলওয়ামায় পোস্টিং হওয়া অনেক সিআরপিএফ জওয়ানই। তখন বোধহয় কেউই আন্দাজ করেননি, যে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাশ্মীরের বুকে ঘটতে চলেছে স্বাধীনতার পরবর্তী সবচেয়ে বড় হামলা। বৃহস্পতিবার বারবেলায় দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ধ্বংসলীলা চালায় জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনের জঙ্গিরা। মাস্টারমাইন্ড মাসুদ আজহারের প্ল্যানে নিমেষে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ৪০টিরও বেশি তাজা প্রাণ। শহিদ হন দুই বঙ্গ সন্তান বাবলু সাঁতরা এবং সুদীপ বিশ্বাসও।

তবে এত লাশের মাঝেও খানিক স্বস্তির খবর পেলেন আর এক বাঙালি জওয়ানের পরিবার। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার বাসিন্দা সিআরপিএফ জওয়ান মঙ্গল হেমব্রম সেদিন ঘটনার সময় অন্য ট্রাকে ছিলেন। চোখের সামনেই দেখেন বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে সতীর্থদের গাড়ি। তবে ভাগ্যের জোরে এ যাত্রায় বেঁচে যান মঙ্গল।

২০১৮ সালেই পুলওয়ামায় পোস্টিং হয়েছিল মঙ্গল হেমব্রমের। বৃহস্পতিবার ভয়াবহ জঙ্গি হানার খবর শুনে আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল মঙ্গলের পরিবার। বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও হদিশ মেলেনি মঙ্গলের। উত্তেজনা-আতঙ্কে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর শুক্রবার ফোন আসে মঙ্গল হেমব্রমের বাড়িতে। মঙ্গল নিজেই ফোন করে বাড়িতে খবর দেন বেঁচে আছেন তিনি। বাড়ির ছেলের ফোন আসায় ধড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন মঙ্গল হেমব্রমের পরিবার। 

এ দিন ৭৮টি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন প্রায় ২৫০০ জওয়ান। বেশিরভাগই ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলেন। কেউ বা কদিন পর ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। জঙ্গি হানা হয় সিআরপিএফ-এর কনভয়ে। বিস্ফোরক বোঝাই এসইউভি নিয়ে সিআরপিএফ-এর ট্রাকে ধাক্কা মারে জইশ জঙ্গি বছর কুড়ির তরুণ আদিল আহমেদ। তারপরেই জওয়ানদের ঘিরে ধরে শুরু হয় গুলিবৃষ্টি। এই ভয়ানক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি সিআরপিএফ জওয়ান। আহত হয়েছেন অসংখ্য।

Shares

Comments are closed.