একে ফণী, সঙ্গী ভরা কোটাল, সুন্দরবনে ফিরছে আয়লার আতঙ্ক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ২০০৯। ২৫ মে। গোটা সুন্দরবন তছনছ হয়ে গিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লার তাণ্ডবে। বাড়ি-ঘর, গাছ ভেঙে পড়া থেকে শুরু করে চাষের জমি, মাছের ভেড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে। সাধারণ মানুষের জনজীবন হয়েছিল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। শুক্রবার সকালে যেন সেই ছবিই ফিরে এসেছিল সুন্দরবনে। হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয় নামখানা, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবারে। মিনিট পাঁচেক পর সেই ঝড় কমে গেলেও তা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিল আয়লার স্মৃতি। তবে সকালে ছিল শুধু ট্রেলর। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হবে আসল ছবি। একদিকে ঘূর্ণিঝড়, অন্যদিকে ভরা কোটাল। এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হতে চলেছে সুন্দরবনের উপকূল এলাকা।

    আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের উপকূল এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা বাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিন জোয়ারের সময় যতটা জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়, তার থেকে বেশি এই জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে দিল্লি আইআইটি’র তরফে জলোচ্ছ্বাসের একটি চার্ট তৈরি করে হয়েছে। এই চার্টে দেখা যাচ্ছে, যেখানে বালাসোরে জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ ৩.৭ মিটার সেখানে ডায়মন্ড হারবারের কাছে জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ ৪.৫ মিটার। এ ছাড়াও তটরেখার হ্রাস-বৃদ্ধি বিচার করে দেখা যাচ্ছে, সর্বাধিক বৃদ্ধি হয়েছে ডায়মন্ড হারবার উপকূলে। 

    শুধু ডায়মন্ড হারবারই নয়, এই জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ গোটা সুন্দরবন এলাকার উপকূল জুড়ে একই রকম। জলের সীমার এই উচ্চতা বৃদ্ধি আশঙ্কা ডেকে আনছে উপকূলের মানুষদের জন্য।

    শুধুমাত্র ফণীর প্রভাব নয়, এই জলোচ্ছ্বাস বাড়ার আরেকটি কারণ হলো ভরা কোটাল। শুক্রবার রাত থেকেই পড়ছে অমাবস্যা। অর্থাৎ সমুদ্রে দেখা যাবে ভরা কোটাল। এমনিতেই ভরা কোটাল সমুদ্রের জল ফুলে ফেঁপে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। এ বার সেই রূপ আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে বলেই পূর্বাভাস।

    আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ফণী ও ভরা কোটালের জোড়া ফলায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা। বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের জল স্থলভাগে ঢুকে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। আর সে রকম হলে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হবে সুন্দরবন এলাকায়। এই আশঙ্কায় আগে থেকেই সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি রাখা হয়েছে।

    মানুষের মনে ফিরে আসছে আয়লার আতঙ্ক। এক রাতের ঘূর্ণিঝড়ে কীভাবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবন, তা এখনও মানুষের মনে টাটকা। আর তাই আবার সেই পরিস্থিতি হোক, তা চাইছে না তারা। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের বাইরে যাওয়ার সাধ্য কারও নেই। তাই আপাতত আশা-আশঙ্কার দোলাচলে রয়েছেন সুন্দরবনের বাসিন্দারা।

    আরও পড়ুন

    পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৩০ ঘণ্টা এই রাজ্যে থাকবে ফণী, বুঝে নিন তার গতিপ্রকৃতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More