শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কাউন্সিলরদের বাড়ির সামনে সিসিটিভি লাগালেন চেয়ারম্যান, মনিটরিং করছে পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাটকের যেন শেষ নেই গঙ্গারামপুরে!

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার অর্থাৎ ৫ অগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পুরসভায় আস্থা ভোট। এর মধ্যে আবার অন্য একটি আপিলের কাল, সোমবার শুনানি হাইকোর্টে। ফলে ভোট নিয়ে যখন সংশয় তৈরি হয়েছে, তখনই গঙ্গারামপুর পুরসভার কাউন্সিলরদের বাড়ির সামনে সামনে সিসিটিভি বসালেন চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র। যিনি আবার প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নেতা বিপ্লব মিত্রের ভাই। আর সেই সিসিটিভি মনিটরিং করছে পুলিশ।

সিসিটিভি কেন?

চেয়ারম্যানের বক্তব্য, তৃণমূল চাইছে ধমকে চমকে বোর্ড দখল করতে। কাউন্সিলরদের বাড়িতে বাড়িতে লোক পাঠিয়ে চলছে হুমকি। সেটা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। প্রশান্তবাবুর দাদা বিপ্লব মিত্র বলেন, “আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। প্রশাসন এই পরামর্শ দিয়েছে। আমরা সেটাই কার্যকর করেছি।” জানা গিয়েছে পুরসভার ৮০ হাজার টাকা খরচা করে ১৩ জন কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে এই সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। বিপ্লববাবুর দাবি, তিন-চারজন কাউন্সিলর এই সিসিটিভি লাগাতে রাজি হননি।

গঙ্গারামপুর পুরসভায় মোট আসন ১৮। তৃণমূলেরই ছিল ১৮ জন। কিন্তু চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চায় তৃণমূল। তাতে সই করে ১০ জন। ৮ জন সই না করায়, অনেকেই মনে  করছেন, এঁরা রয়েছেন চেয়ারম্যানের সঙ্গেই। যদিও চেয়ারম্যান সয়ারসরি বিজেপি-তে যোগ দেননি। তবু বিপ্লব মিত্র-সহ দক্ষিণ দিনাজপুরের একাধিক নেতা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় জল্পনার শেষ নেই।

তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষের দাবি, “বিজেপি সব রঙ চড়িয়ে, গপ্প বানিয়ে বলছে। গঙ্গারামপুর পুরসভা আমাদের দখলেই রয়েছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে। বিজেপি হারার ভয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছে।”

গত ২২ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, ৫ অগস্ট আস্থা ভোট করতে হবে। কিন্তু এই যে অনাস্থা আনা হয়েছে তার প্রক্রিয়াগত গলদ আছে, এই অভিযোগ তুলে ডিভিশন বেঞ্চে আরও একটি মামলা হয়েছে। তার শুনানিও রয়েছে সোমবার। তাই বিপ্লব শিবিরের বক্তব্য, মামলা আর আস্থা ভোট তো আর এক সঙ্গে হতে পারে না। মামলাটাই প্রাধান্য পাবে। আদালত যখন আবেদন গ্রহণ করেছে তখন শুনানি হবে। তারপরই হবে আস্থা ভোট। যদিও তৃণমূল রবিবার বিকেল পর্যন্ত বলছে, সোমবারই হবে আস্থা ভোট। পরের মামলার কথাও শাসক দল জানে না বলে দাবি তাঁদের। এখন দেখার সোমবার কী হিসেব ছবি দাঁড়ায় গঙ্গারামপুর পুরসভায়। আদলতে মামলা ওঠে নাকি পুরসভার বোর্ড রুমে আস্থা ভোট হয়।

Comments are closed.