শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

রাজীব কুমার: সিবিআইয়ের টিম তৈরি, অপেক্ষা শিলং-এ কবে, কখন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড কাণ্ডে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টিম গঠন করে ফেলল সিবিআই। ১০ জনের একটি দল দিল্লি থেকে শুক্রবারই তাঁরা পা রাখবে শহরে। তারপর এখান থেকে ডিএসপি তথাগত বর্ধন-সহ অন্য গোয়েন্দাদের নিয়ে সার্বিক একটি দল ফাইলপত্তর গুছিয়ে নিয়ে শনিবারই হয়তো উড়ে যাবেন শিলং-এ।

কিন্তু রাজীব কুমারকে কবে ডাকা হবে? সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লালবাজারের বিগবস সিবিআই-কে জানিয়েছিলেন, তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি দেখা করতে পারেন। তবে তাঁর দেওয়া তারিখে যে সিবিআই ডাকবে না তা মোটামুটি পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির সিদ্ধান্তে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে ৮ তারিখ রাজীব কুমারকে শিলং-এ যেতে হবে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মধ্যে দিয়ে সিবিআই বার্তা দিতে চাইল, রাজীবের সময় অনুযায়ী এজেন্সি চলবে না। এজেন্সির দেওয়া সময়েই তাঁকে জেরার মুখে বসতে হবে।

প্রায় শতখানেক প্রশ্ন দিয়ে মালা গেঁথে সিবিআই-এর অফিসাররা কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে বসবেন বলে খবর। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কোথায় গেল সারদার সদর দফতরে সুদীপ্ত সেনের ঘরের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ?

সেই ফুটেজ যে রাজ্য সরকারের গঠন করা সিট বাজেয়াপ্ত করেছিল, তা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বলে দিয়েছেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়। সেই সিটের মাথাতেই ছিলেন তৎকালীন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। অনেকের মতে, সিবিআই, কলকাতার পুলিশ কমিশনার হিসেবে রাজীব কুমারকে ডাকছে না। তারা তাঁকে ডাকছে বিধাননগরের প্রাক্তন সিপি তথা সিটের প্রধান হিসেবে।

গত দু’বছর ধরে ওই ফুটেজের জন্য প্রাণপাত করে ফেলেছে সিবিআই। তার একটাই কারণ, সেটা হাতে পেলেই, কারা কারা সুদীপ্ত সেনের চেম্বারে ঢুকতেন তা জানা যেত। অনেকটাই স্পষ্ট হতো ‘প্রভাবশালীদের’ যোগাযোগের বিষয়টি। রাজীব কুমারকে গত দু’বছরে একাধিক নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কিন্তু তিনি যাননি। এ বার তাঁকে  যেতেই হবে। কারণ দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ।

সিবিআই সূত্রে ইঙ্গিত, এক দিনে হয়তো শিলং থেকে রাজীব কুমার কলকাতায় ফিরে আসতে পারবেন না। কতদিন তাঁকে সেখানে থাকতে হবে তা জেরার গতিপ্রকৃতির উপরে অনেকটাই নির্ভর করবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিবিআই-এর স্পেশাল ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তব আসেন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। মিটিং করেন সারদার তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে। প্রস্তুতি তুঙ্গে গোয়েন্দাদের। অপেক্ষা এ বার রাজীবকে টেবিলে বসানোর তারিখের।

Shares

Comments are closed.