মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

চিটফান্ড তদন্তে এ বার দময়ন্তী ও ওয়াকারকেও জেরা করতে পারে সিবিআই

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডের পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম বিতর্ক হয়নি। এ বার সারদা ও রোজভ্যালি তদন্তে সেই আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে জেরা করতে চেয়ে ডিজিকে চিঠি দিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির তরফে বর্তমান (ডিসি) বন্দর ওয়াকার রাজাকেও জেরা করতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে নবান্নে।

কয়েকমাস আগেই রাজ্য পুলিশ থেকে ফের কলকাতা পুলিশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দুঁদে পুলিশ আধিকারিক দময়ন্তী সেনকে। এখন তিনি কলকাতার অতিরিক্ত কমিশনার (৩) পদে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত রোজভ্যালির বেআইনি টাকা তোলা নিয়ে দময়ন্তী সেনকে চিঠি লিখেছিলেন। দময়ন্তী তখন ছিলেন কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার প্রধান। কিন্তু যেহেতু রোজভ্যালি সেবি নথিভুক্ত সংস্থা ছিল সেহেতু দময়ন্তী চিঠি লিখেছিলেন সেবিকে। সেবি রোজভ্যালির ব্যবসা বন্ধের বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং পরে গৌতম কুণ্ডু আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ পেয়ে যান। মনে করা হয়েছে সে ব্যাপারে কথা বলার জন্যই দময়ন্তীকে জেরা করতে চাইছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি।

এই জেরার চিঠির ব্যাপারে দময়ন্তী সেন সংবাদমাধ্যমে মুখ না খুললেও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন ওয়াকার রাজা। ২০১২ সালে ওয়াকার ছিলেন সিআইডি-তে। ওই সময়ে তিনমাস অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা কাস্টমস হাউসে বৈঠকে বসত। উপস্থিত থাকতেন ২৮-৩০টি সংস্থার আধিকারিকরা। সেবি, রেজিস্টার্স অব কোম্পানিজ, ইডি, কলকাতা পুলিশ, সিআইডি-র মতো সংস্থা থাকত ওই বৈঠকে। আলোচনা হত কর ফাঁকি, দুর্নীতি ইত্যাদি প্রভৃতি নিয়ে। জানা যাচ্ছে, ২০১২ সালের জুলাই মাসে প্রথম যখন ওই বৈঠকে রোজভ্যালির কেলেঙ্কারি সামনে আসে তখন নাকি খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ওই বৈঠকে ঠিক কী হয়েছিল তা জানতে চাওয়া হবে ওয়াকার রাজার থেকে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “সিআইডি-র তরফেই আমাকে ওই বৈঠকে পাঠানো হতো। আমার যা মনে আছে আমি সিবিআইকে বলব।”

এমনিতেই  এই চিটফান্ড দুর্নীতির তদন্তের জন্য একাধিক পুলিশ কর্তাকে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। রাজীব-কুমার সিবিআইয়ের টানটান লড়াই দেখেছে বঙ্গবাসী। জেরা করা হয়েছে অর্ণব ঘোষের মতো পুলিশ কর্তাকেও। এ ছাড়াও বিধাননগর কমিশনারেটের অন্তর্ভুক্ত একাধিক থানার ওদি, চিটফান্ড তদন্তের জন্য গঠিত স্পেশাল ইনভিস্টিগেশন টিমের সদস্যকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এ বার সেই তালিকায় নাম যুক্ত হতে পারে দময়ন্তী সেন এবং ওয়াকার রাজার।

Share.

Comments are closed.