শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

Breaking: সারদা চিটফান্ড মামলায় চিদম্বরমের স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ আদালতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারদা মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের স্ত্রী, আইনজীবী নলিনী চিদম্বরমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল সিবিআই। গোয়েন্দাদের অভিযোগ সেবি ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা থেকে বাঁচতেই চিটফান্ড সারদার মালিক সুদীপ্ত সেন নলিনীকে ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। নলিনী একসময় সারদাকে আইনি পরামর্শ দিতেন বটে কিন্তু তার জন্য অত টাকা প্রাপ্য হয় না। শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ সিবিআই অফিসাররা বারাসত কোর্টে ওই চার্জশিট পেশ করেন।

নলিনী চিদম্বরম আয়কর ও কর্পোরেট আইনে বিশেষজ্ঞ। সেজন্যই সারদা তাঁর পরামর্শ নিত বলে জানা যায়। কিন্তু গোয়েন্দাদের দাবি, তাঁর স্বামী পি চিদম্বরম যেহেতু তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন, তাই সরকারের নানা মহলে নলিনীর ভালো প্রভাব ছিল। তিনি সারদার কর্তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, অর্থের বিনিময়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাত থেকে বাঁচিয়ে দেবেন।

সিবিআই নলিনীর বিরুদ্ধে এদিন যে চার্জশিট দেয়, তাতে বলা হয়েছে, কয়েক দফায় নলিনীর অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠানো হয়েছিল।

সারদার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে গত বছর তিনেক ধরে নলিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটও। নলিনী মাদ্রাজ হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁকে ইডি যেন জেরা করতে না পারে। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন গ্রাহ্য করেনি। গত বছর একাধিকবার তাঁকে ডেকে পাঠায় ইডি। তাদের দাবি, সারদার অন্যতম কর্ত্রী মনোরঞ্জনা সিং নিজে জানিয়েছেন, তিনি নলিনীকে ১ কোটি টাকা দেন।

চিদম্বরমের পরিবার থেকে আগেই বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হচ্ছে। এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্রও বলেন, চিদম্বরমের পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

নলিনীর ছেলে কার্তি চিদম্বরমের বিরুদ্ধেও এয়ারসেল ম্যাক্সিস মামলায় তদন্ত করছে সিবিআই। গতবছর সিবিআই তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল। ৪৬ বছরের কার্তি ২২ দিন তিহার জেলে কাটিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৭ সালে তিনি আইএনএক্স মিডিয়া নামে এক টেলিভিশন সংস্থার থেকে ৩০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে ওই সংস্থাকে বেআইনি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেন। তখন তাঁর বাবা কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। সেই সুযোগেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারে প্রভাব খাটাতেন।

আইএনএক্স মিডিয়ার প্রাক্তন দুই মালিক পিটার মুখার্জি ও ইন্দ্রাণী মুখার্জি জেরায় বলেন, তাঁরা কার্তির মাধ্যমে ঘুষ দিয়েছিলেন খোদ অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমকেই। তারপরেই কার্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

Shares

Comments are closed.