কুকুরের ঠেলায় গাছে উঠল বিড়াল, রইল টানা ১০ দিন, নাস্তানাবুদ দমকল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, ‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।’

    আলিপুরদুয়ারের বিড়াল কুকুরের তাড়া খেয়ে গাছে উঠল। সেখানেই বসে থাকল টানা দশ দিন। দমকল কর্মীরা নামানোর চেষ্টা করেও পারলেন না। অবশেষে গাছের ডাল কাটার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা তাকে নামিয়ে আনল ডাল থেকে। নেমেও ভয়ে থানার মধ্যেই আশ্রয় নিল সেই বিড়াল।

    ঘটনাস্থল আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম থানা এলাকার। দশ দিন আগে বেশ কিছু কুকুরের তাড়া খেয়ে একটা শিমুল গাছের ডালে উঠে বসেছিল একটি বিড়াল। তারপর থেকে নাকি পালা করে গাছের নীচে বসে থাকত কুকুরের দল। আর ডালেই থাকত সেই বিড়াল। এতদিন কিছু খেতেও পায়নি সে। কিন্তু ভয়ে গাছ থেকে নামতেও পারেনি। কুকুরদের সেখান থেকে তাড়িয়ে বিড়ালটিকে গাছ থেকে নামানোর অনেক চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু কিছুতেই নামানো যায়নি তাকে।

    সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেন দমকলে। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও। বারোবিশা থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে পৌঁছয় সেখানে। কর্মীরা প্রথমে মই লাগিয়ে বিড়ালটিকে নামানোর চেষ্টা করতে থাকেন। তাতে আরও উপরে উঠে যায় বিড়ালটি। তখন হোস পাইপ দিয়ে জল ঢেলে বিড়ালটিকে নামানোর চেষ্টা করতে থাকেন তাঁরা। কিন্তু জলে ভিজেও কোনওরকমে ডালেই বসে থাকে সেই বিড়াল।

    অবশেষে ডাকা হয় উঁচু গাছের ডাল কাটার সঙ্গে যুক্ত চার যুবককে। তাঁরা কৌশলে গাছে উঠে বিড়ালটিকে পাকরাও করেন। তারপর একটি থলেতে ভরে তাকে থানার কাছে নিয়ে এসে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাড়া পাওয়ার পরে থানার মধ্যেই আশ্রয় নেয় বিড়াল। সেখানেই তাকে খাবার দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ থানায় কাটিয়ে তারপর এক ছুটে পালিয়ে যায় সে।

    প্রাণীবিদরা জানাচ্ছেন, কোনও কারণে কুকুরগুলোকে দেখে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল বিড়ালটি। তাই গাছ থেকে কোনওমতেই নামেনি সে। দশ দিন না খেয়েও সেখানেই ছিল সে। নামিয়ে আনার পরেও যে তার ভয় কাটেনি তা থানার মধ্যে আশ্রয় নেওয়া দেখেই পরিষ্কার। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, দমকল ও পুলিশকে ধন্যবাদ যে তারা ঠান্ডা মাথায় বিড়ালটিকে নামিয়ে এনেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More