পাইপ ফেটে ভাসছে জিটি রোড, পানীয় জলে দূষণের আশঙ্কা ছড়াচ্ছে বর্ধমানে

মাসখানেক পরেও গা-ছাড়া ভাব প্রশাসনের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানীয় জলের পাইপ ফেটে যাওয়ায় জিটি রোড ভাসছে। পথচারীদের সমস্যা তো হচ্ছেই, সঙ্গে পানীয় জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পানীয় জলের অপচয় হওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে রাজস্বের। এই অবস্থা মাসখানেক ধরে চললেও প্রশাসনের সেই ‘দেখছি-দেখব’ গোছের ভাব।

জিটি রোডে থাকা পানীয় জলের পাইপের ঢাকনা থেকে বেরিয়ে ছিল লোহার পাত। তা থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল পুরমাত্রায়। ছোট খাট দুর্ঘটনা ঘটছিল তবে কপালগুণে তেমন বড় কিছু ঘটেনি। বার বার প্রশাসনকে জানানোর পরে লোহার পাত কেটে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছিল কিছুদিন আগে তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। পাইপ মেরামত করে জল বন্ধ করার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।

প্রাথমিক ভাবে এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক বার প্রশাসনকে তাঁরা জানিয়েছেন তবে লাভ কিছু হয়নি। রাস্তার যে অংশে জল জমছে সেই অংশ এড়িয়ে চলছেন ক্রেতারা। জোরে গাড়ি গেলে জল ছিটকে লাগছে পথচারীদের গায়ে, দোকানে।

এখন প্রতিদিন জিটি রোডের কালীবাজার এলাকা দিনে তিনবার জলমগ্ন হয়। জিটি রোডের মাঝেই গর্ত হয়ে জমে থাকে ওই জল।

বর্ধমান শহরের বীরহাটার ঠিক আগে কালীবাজার চৌমাথায় জিটি রোডের অবস্থা সব চেয়ে বিপজ্জনক। বীরহাটা থেকে ঢলদিঘির দিকে যাওয়ার রাস্তায় যে চৌমাথা আছে সেখানে রাস্তার মাঝে পানীয় জলের পাইপের একটি চৌকো অংশ রয়েছে, অনেকটা ম্যানহোলের মতো। এই জায়গাতেই ম্যানহোলের মতো অংশের ঢাকনার পাত উঠে যায় মাসখানেক আগে। এর উপর দিয়েই যাতায়াত করছে বাস-সহ সব ধরনের যানবাহন।

জল বার হতে হতে ওই অংশে গর্ত হয়ে যাওয়ার ফলে জায়গাটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রাস্তার এই অংশে আলোর কোনও ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পরে বিপদের আশঙ্কা তাই বেড়ে যায় অনেক গুণ।

বাইক আরোহীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। যাঁরা এই রাস্তার নিয়মিত যাত্রী নন তাঁদের বিপদের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

পাইপ ফেটে এমনই হাল রাস্তার

পানীয় জল যেমন এই অংশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে তেমনই অন্য সময় নোংরা জলও ঢুকছে পানীয় জলের পাইপে। ফলে পানীয় জল দূষিত হচ্ছে। যদিও এব্যাপারে কোনও হেলদোল নেই স্থানীয় পুর প্রশাসনের।

এলাকাবাসীদের বক্তব্য, জিটি রোডে দিন-রাত সব সময়ই যানবাহনের চাপ থাকে। এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ চারমাথা। এই অংশ মাসখানেকের উপর বেহাল হয়ে থাকলেও প্রশাসন উদাসীন। এব্যাপারে রাজ্যের পূর্ত দফতরের আধিকারিক ভজন সরকার বলেন, “পানীয় জলের লাইন মেরামতের বিষয়টি পুরসভার দেখার কথা। পুরসভাকে চিঠি লিখে জানানো হবে।” এই রাস্তা দিয়ে সকলেই যাতায়াত করেন। এতদিন কেন পুরসভাকে কিছু জানানো হয়নি সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁর থেকে পাওয়া যায়নি। পুরসভার আধিকারিক অমিত গুহ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।”

এলাকার লোকজন বলছেন, বার বার জানানো সত্ত্বেও এখনও খতিয়ে দেখার সময় পেলেন না পুরকর্তারা! তাঁরা কি কেউই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন না! যদি নাও করেন তাহলেও কি পরিষেবা দেওয়ার কোনও দায় তাঁদের নেই!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More