বাংলায় তিন বিশ্ববিদ্যালয়, সিভিল সার্ভিসে তিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজ্য বাজেটে ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য নতুন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা রাজ্য বাজেটে। এর জন্য আগামী অর্থবর্ষে বরাদ্দ হবে ৫০ কোটি টাকা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। একুশে ভোটের আগে শেষ পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেটে অনেক বেশি দরাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যাশা মতোই জনমোহিনী এই বাজেটে তফসিলি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া জনজাতির কর্মসংস্থান তো বটেই, শিক্ষাও প্রাধ্যান্য পেয়েছে এবারের বাজেটে।

আগামী দু’বছরে রাজ্যে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য তিনটি নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্রও তৈরির কতাও ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

গত আট বছরে ১২টি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হয়েছে ৪২টি। আগামী দু’বছরে রাজ্যে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে বলে ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। ঝাড়গ্রামে বীরসা মু্ন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়, তফসিলি জাতি অধ্যুষিত এলাকায় অম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তফসিলি উপজাতিদের জন্য আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর জন্য আগামী অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হবে ৫০ কোটি টাকা।

আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই মুহূর্তে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আছে তার মধ্যে ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়, সংখ্যালঘুদের জন্য আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষ্ণনগরে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়, হিন্দীভাষীদের জন্য হিন্দী বিশ্ববিদ্যালয়, দার্জিলিং হিল ইউনিভার্সিটি, পূর্ব মেদিনীপুরে মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিন বাজেট পেশের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় যে তিনটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে তার মূল ভিত্তিই হবে অলচিকি ভাষা। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জঙ্গলমহলের বাছাই করা কিছু প্রাথমিক স্কুলে সাঁওতালি ভাষায় প্রাথমিক স্তরে পঠনপাঠন শুরু হয়েছিল। রাজ্যে পালা-বদলের পরে জঙ্গলমহলের আদিবাসী প্রধান এলাকার কয়েক’শো বাংলা মাধ্যম স্কুলে সাঁওতালি মাধ্যম চালু করার উদ্যোগ হয়। আগামী দিনে রাজ্য শিক্ষা দফতর উচ্চ বিদ্যালয়েও সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অলচিকি লিপিতে পড়ানোর পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলার ছেলেমেয়েদের এগিয়ে দিতেও উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে নতুন তিনটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির কথা ঘোষণা করা হল রাজ্য বাজেটে। কলকাতায় ‘মহাত্মা গান্ধী’, শিলিগুড়িতে ‘জয় হিন্দ’ ও দুর্গাপুরে ‘আজাদ’ নামে তিনটি সিভিল সার্ভিস অ্যাকাডেমি তৈরি করা হবে। এর জন্য আগামী অর্থবর্ষে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

আদিবাসী ও তফসিলিদের জন্য আরও দু’টি বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে এবারের রাজ্য বাজেটে। প্রথমটি, তফসিলি জাতির জন্য ‘বন্ধু’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে বলা হয়েছে, রাজ্যের ৬০ বছরের বেশি বয়সের তফসিলি জাতির মানুষ, যাঁরা কোনও পেনশন পান না, এরকম ১০০ শতাংশ মানুষকে প্রতি মাসে হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে। এর ফলে আনুমানিক ২১ লক্ষ তফসিলি জাতির মানুষ উপকৃত হবেন বলে দাবি করা হয়েছে বাজাটে। এই খাতে আগামী অর্থবর্ষে ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়।

দ্বিতীয়টি, ‘জয় জহার’ প্রকল্প, যাতে ৬০ বছরের বেশি বয়সের আদিবাসী ও তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের ১০০ শতাংশ মানুষ, যাঁরা অন্য কোনও পেনশন পান না, তাঁদের প্রতি মাসে হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আনুমানিক চার লক্ষ আদিবাসী ও তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হবেন।

রাজ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘আগে জানতাম গল্পের গরু গাছে ওঠে। এখন দেখছি গল্পের বাজেট গাছে উঠছে। বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বললেন ৪২টি নাকি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। আরও তিনটি করার কথা ঘোষণা করলেন। কিন্তু রাজ্যের মানুষ জানতে চায়, কোথায় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়? খাতায়-কলমে? শিক্ষক কোথায়? ছাত্র কোথায়? কর্মচারী কোথায়? জবাব দিন মুখ্যমন্ত্রী। ’’

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.