চিটফান্ডের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বুদ্ধবাবুর সরকারকেও, দাবি সিবিআইয়ের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড তদন্তে নেমে রাজ্যের স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম তথা এসআইটি-র বিরুদ্ধে এর আগেই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে সিবিআই। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় বাম জমানার প্রসঙ্গও তুলতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সিবিআইয়ের অভিযোগ, চিটফান্ডের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সতর্ক করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানো হয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রশাসনকেও। কিন্তু তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার আদৌ কোনও পদক্ষেপ করেছিল কিনা এখনও জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, চিটফান্ড মামলা এখন ফের সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। সম্প্রতি মামলার তদন্তের স্বার্থে সদ্য প্রাক্তন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে হানা দিয়েছিল সিবিআই টিম। কিন্তু কলকাতা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সিবিআইয়ের অফিসারদের টেনে হিঁচড়ে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শেক্সপিয়র সরণী থানায়। এর পরই কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অবমাননার অভিযোগে মামলা করে সিবিআই। বুধবার ওই মামলারই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

সিবিআই সূত্রে বলা হচ্ছে, চিটফান্ডের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রচুর মানুষের থেকে বহু কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করা হচ্ছে, এই মর্মে ২০০৯ সালেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রককে রিপোর্ট দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক ওই রিপোর্ট ২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর পাঠিয়ে দিয়েছিল রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিবকে। চিঠিতে সারদা চিটফান্ড সংস্থার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, হতে পারে লোক ঠকানোই ওদের উদ্দেশ্য। তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার ক্ষমতায় ছিল বাংলায়। কিন্তু সম্ভবত, চিটফান্ড সংস্থাগুলির সঙ্গে আঁতাতের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সিবিআইয়ের ধারণা। সিবিআইয়ের বক্তব্য, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বাংলায় সক্রিয় ছিল সারদা চিটফান্ড সংস্থা। ফলে তৃণমূল ও বাম দুই সরকারেরই দায় রয়েছে।

সেই সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ছিলেন অসীম দাশগুপ্ত। দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। এ ব্যাপারে অসীম বাবুর দাবি, “২০১০ সালের এপ্রিল মাসে আমরাই প্রথম সেবি-কে এই ধরনের অর্থলগ্নি সংস্থাগুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করেছিলাম। তার আগে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা বা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক রাজ্য সরকারকে কিছু জানায়নি।”

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইদানীং প্রায়শই বলেন, চিটফান্ডের জন্ম হয়েছিল বাম জমানাতেই। তিনি ক্ষমতায় এসে বরং সেগুলি বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে সিবিআই সূত্রে শোনা যাচ্ছে, নবান্নের ভূমিকা যে কোনওভাবেই ইতিবাচক ছিল না তা আদালতে জানাতে পারে তারা। কেন্দ্রীয় ওই তদন্ত এজেন্সির বক্তব্য, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ওই চিঠি পেয়ে মহাকরণ বা নবান্ন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল তা জানতে চেয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তার কোনও জবাব মেলেনি। তাই তাঁকে ফের অক্টোবর মাসের শেষে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার জবাবও আসেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এমনিতেই বাংলায় বামেদের ভোটে ভাগ বসাতে চাইছে বিজেপি। সিবিআইয়ের এই বক্তব্য তুলে ধরে বিজেপি লোকসভা ভোটে প্রচারের আগে বলতে পারে যে, তৃণমূল এবং বাম দু’জনেই চিটফান্ডকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের টাকা লুঠের জন্য দায় এড়াতে পারে না এরা কেউই।

আরও পড়ুন

সিবিআইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, চিটফান্ড মালিকদের সুবিধা করে দিতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের শরিক ছিল এসআইটি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More