শরীরে জড়ানো বিদ্যুতের তার, চুঁচুড়ায় বাড়ি থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির চুঁচুড়ার তালডাঙায় শরীরে বিদ্যুতের তার জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হল এক বৃদ্ধ দম্পতির দেহ। মানসিক অবসাদে তাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। দম্পতির নাম গঙ্গাধর দাস (৮০) এবং জ্যোতি দাস (৭০)।

    এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গত পঞ্চাশ বছর ধরে একটি ছোট বাড়িতে বসবাস করতেন ওই দম্পতি। গঙ্গাধর ইলেকট্রিকের কাজ করতেন। পরে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় নিরাপত্তাকর্মীর কাজও করেছেন। তবে সম্প্রতি বয়সজনিত কারণে তিনি কিছু করতে পারছিলেন না। তাঁদের দুই মেয়ে। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে অনেক দিন আগে। মূলত তাঁরাই মা-বাবার সংসার চালাতেন। লকডাউনের আগে একটি চপের দোকানে গিয়ে বসতেন ওই বৃদ্ধ এবং কাজেও সাহায্য করতেন তবে সম্প্রতি তিনি লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা তেমন আর করছিলেন না। বার্ধক্যজনিক কারণে অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন।

    শনিবার সকাল দশটা-সাড়ে দশটা নাগাদ কোনও দরকারে এক ব্যক্তি তাঁকে ডাকাডাকি করছিলেন। সাড়া না পেয়ে পাশের বাড়িতে বলেন। তিনিও ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। তখনই দরজা খুলে যায়। দরজাটি ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল না।

    দরজা খুলে তাঁরা দেখেন মেঝেতে দু’জন পড়ে আছেন। বৃদ্ধার পায়ে বিদ্যুতের তার জড়ানো রয়েছে। তারটি সুইচ বোর্ডে গোঁজা। একই রকম একটি তার বৃদ্ধের হাতে ধরা রয়েছে।

    তাঁরাই খবর দেন চুঁচুড়া থানায়। পুলিশ এসে তার ছাড়িয়ে দেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে দেহ দুটি পাঠিয়ে দেয়। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে পুলিশ।

    খবর পেয়ে তাঁদের মেয়ে, জামাই ও নাতিরা আসেন।  হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্যপ্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমিত্র ঘোষও চলে আসেন। তাঁদের মেয়েরা জানিয়েছেন, একটি নারকেল গাছ ভেঙে পড়া নিয়ে ভাইপোর সঙ্গে সম্প্রতি তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল ওই বৃদ্ধের। তবে তার জন্য খুন – একথা কেউ বলছেন না।

    বছর তিনেক আগে চন্দননগরে একই রকম পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করেছিলেন এক দম্পতি। তাঁদের ছেলে দিল্লিতে থাকাকালীন হিটার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। পরে ওই দম্পতি তাঁদের বাড়ি-সহ সমস্ত সম্পত্তি দান করে নিজেরা শরীরে তার জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন। কারণ আলাদা হলেও দুই ক্ষেত্রেই শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন দম্পতি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More