মালদায় তরুণীর পোড়া দেহ উদ্ধার তদন্তে এখনও আঁধার, নীল স্কুটি নিয়ে জল্পনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মালদায় উদ্ধার হওয়া অগ্নিদগ্ধ যুবতীর পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। তবে এবার পুলিশের হাতে এসেছে এক নতুন তথ্য। আপাতত একটি নীল স্কুটির খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে মালদা পুলিশ। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে কোতোয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা। চলছে চিরুনি তল্লাশি।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের হাতে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে দেখা গিয়েছে কোতোয়ালির মালদা-রতুয়া রাজ্য সড়ক এলাকায় রাত সাড়ে বারোটার পর একটি নীল রংয়ের স্কুটিতে চড়ে যাচ্ছেন এক যুবক। পিছনে বসা রয়েছেন এক যুবতী। এই নীল রঙয়ের স্কুটির পিছনে আরও একটি বাইকে দুই যুবককে যেতে দেখা গিয়েছে ওই সিসিটিভি ফুটেজে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় রাস্তার ধারে রয়েছে একটি কাচের সামগ্রী তৈরি করার দোকান। সেই দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে এই ফুটেজ এসেছে পুলিশের হাতে। আপাতত ওই নীল স্কুটির খোঁজেই তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তের কিনারা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  মৃত যুবতীর পরিচয় জানতে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার কিনারা হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মালদা জেলার পুলিশ কর্তারা। পুলিশ সূত্রে খবর, যেখানে অগ্নিদগ্ধ যুবতীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরে ধানতলা এলাকায় রয়েছে ওই কাচের সামগ্রীর দোকান। সেই দোকানেরই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে ওই নীল রঙয়ের স্কুটি। তার পিছনেই দেখা গিয়েছে আরও একটি বাইক। ফুটেজ হাতে আসার পর থেকেই ধানতলা এলাকা সংলগ্ন গ্রামগুলোতে তল্লাশি শুরু করেছে মালদা পুলিশ। নীল রংয়ের স্কুটি এবং মোটরবাইক উদ্ধার হলে এই তদন্তের অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মত তদন্তকারী অফিসারের। 

শনিবার গভীর রাতে টিপাজানি, গনিপুর গ্রামের বেশকিছু বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাতভর পুলিশের অভিযানে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কোতোয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধানতলা, টিপাজানি এবং গনিপুর গ্রামের বাসিন্দারা। টিপাজানি গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, শনিবার গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী আসে গ্রামে। বেশকিছু বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে উঠিয়ে তল্লাশিও করে তারা। এতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। তাঁদের কথায়, পুলিশ দিনের বেলাতেও তদন্ত করতে পারতো। গভীর রাতে এরকমভাবে পুলিশি অভিযানে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন আইনগত ভাবে তদন্ত করুক। কিন্তু মানুষকে হয়রানি করে কাজ করলে স্বাভাবিক কারণেই ক্ষোভ-অসন্তোষ ছড়াবে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মালদার ইংরেজবাজার থানার কোতোয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের টিপাজানি গ্রামের একটি আম বাগানের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় এক যুবতীর অর্ধনগ্ন এবং অগ্নিদগ্ধ দেহ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ধর্ষণ করে ওই যুবতীকে খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশেরও অনুমান তেমনটাই। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত ওই যুবতীর নাম-পরিচয় জানতে পারেনি। তবে পুলিশের অনুমান ওই যুবতীর বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। যুবতীর পরিচয় জানতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার আধপোড়া দেহ,  হাতের আংটির ছবি দিয়ে পোস্টও করা হয়েছে মালদা পুলিশের তরফে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More