ওরা দৃষ্টিহীন, কিন্তু মনের দৃষ্টি অনেক জোরালো, তাই ওদের হাতেই দেবীর চালচিত্র

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    সোহিনী চক্রবর্ত্তী

    পুজোর বাকি আর মাত্র ৫৮ দিন। তিলোত্তমা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। খুঁটিপুজোও হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু ক্লাবের। আর উমাকে সাজাতে এ বার এক অভিনব ভাবনা নিয়েছে, জয়রামপুর সর্বজনীন। দৃষ্টিহীনদের হাতেই এ বার সাজবেন মা দুর্গা।

    শহরে যখন এ ধরনের অনন্য ভাবনার খবর পাওয়া যায়, তখন আর একটু গভীরে গেলে গত কয়েক বছর ধরে উঠে আসছে একটা নাম। তিনি উপাসনা চট্টোপাধ্যায়। চেনা ছকের বাইরে গিয়েই অন্যরকম কিছু করাটাই নেশা বেহালার বাসিন্দা উপাসনার। এর আগেও বেহালা শীলপাড়ার বড়বাগান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের পুজোয় রূপান্তরকামীদের দিয়ে দেবীর চোখ আঁকানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন উপাসনা। এ বার তিনি এবং তাঁর সংস্থা ‘রোদ্দুর’ ঠিক করেছেন দেবী দুর্গার চালচিত্র তৈরির ভার দেবেন দৃষ্টিহীনদের উপর। শিল্পীদের দলে থাকবে কচিকাঁচারাও। 

    সমাজে যাঁরা শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে আর পাঁচজনের থেকে একটু দুর্বল, তাঁদের নিয়েই কাজ করেন ‘রোদ্দুর’। কারণ এই সংস্থার সব সদস্যই মনে করেন এই মানুষগুলো কোনওমতেই সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ নয়। বরং তাঁদের ট্যালেন্ট সামনে এলে যেকোনও সাধারণ জিনিসও হয়ে উঠবে অসাধারণ। সেই ভাবনা থেকেই এ বারের নতুন প্রয়াস। উপাসনার কথায়, “দৃষ্টিহীনরা হয়তো আমাদের মতো দেখতে পান না। কিন্তু ওঁদের মনের দৃষ্টি আমাদের থেকেও অনেক বেশি জোরালো। সেখানে কোনও অন্ধকার নেই, শুধু আলো আছে। সেই আলোর ভরসাতেই এ বার মা দুর্গাকে সাজাবেন ওঁরা।”

    মূল ভাবনায় রয়েছেন উপাসনা নিজেই। থিমের নাম ‘দেবী’। আবহ সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন ক্যাকটাসের সিধু। রবিবার হয়ে গিয়েছে জয়রামপুর সর্বজনীনের খুঁটিপুজো। সেখানেই নিজেদের অভিনব ভাবনার কথা প্রকাশ্যে এনেছে উপাসনা এবং তাঁর সঙ্গীরা। ‘রোদ্দুর’-এর সদস্যরা জানিয়েছেন, কুলোর উপর দড়ি দিয়ে নানান কারুকার্য করবেন এই দৃষ্টিহীনরা। সেই কুলো দিয়েই তৈরি হবে দেবীর চালচিত্র। তাঁদের পুজোয় যে এ বার অসাধারণ কিছু হতে চলেছে সে ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জয়রামপুর সর্বজনীনও। আর ‘রোদ্দুর’-এর সদস্যরা বলছেন, মা দুর্গার সাজসজ্জায় এ বার এক মুঠো রোদ্দুর ছড়িয়ে দেবেন আমাদের স্পেশ্যাল বন্ধুরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More