বউকে বিজেপি-তে পাঠিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা! অবরোধ করে প্রতিবাদ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দাপুটে তৃণমূল নেতার স্ত্রী বিজেপি-তে ঢুকে সদস্য সংগ্রহ করছেন। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধে নামলেন অনেকদিন ধরে বিজেপি করে আসা কর্মীরা। স্তব্ধ হয়ে গেল হুগলির অসম লিঙ্ক রোডের যান চলাচল। অবরোধকারী বিজেপি কর্মীদের দাবি একটাই। আর যাই আসুক, দেবরাজ পালের স্ত্রী বীথি পালকে বিজেপি-তে এন্ট্রি দেওয়া যাবে না। অনেকটা পরে মগরা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বাঁশবেড়িয়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা ছিলেন দেবরাজ পাল। এলাকার লোকজন বলেন, মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তর হাত ছিল বলেই এত দাপট তাঁর। টাউন যুব তৃণমূলের সভাপতি হলেও, আসলে সপ্তগ্রাম বিধানসভায় দল চালাতেন দেবরাজই। কিন্তু লোকসভায় ঘুঁটি উলটে গিয়েছে। মন্ত্রীর বিধানসভায় ২২ হাজার ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। লিড পেয়েছিলেন বিজেপি-র লকেট চট্টোপাধ্যায়।

    ভোটের পর জনতার আক্রোশ আছড়ে পড়েছিল দেবরাজের বাড়িতে। একাধিকবার ভাঙচুর হয়েছে। যাঁরা এতদিন দেবরাজের দাপটে ঘরে মধ্যে সেঁধিয়ে ছিলেন, তাঁরাও রাস্তায় নেমে পড়েছেন। তার নমুনা পাওয়া যায় গত ৯ জুলাই।

    বাঁশবেড়িয়া কালীতলা এলাকায় স্বপন ঘোষ নামের এক ভদ্রলোকের ২৭ কাঠা জমি দখল করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেবরাজ পাল। দখল মানে কেমন? একেবারে বিনা পয়সায়? নাহ! তা করেননি রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তর স্নেহধন্য দেবরাজ। যে জমির বাজার মূল্য তিন লক্ষ টাকা কাঠা, সে জমি দেবরাজ নিয়েছিলেন ৫০ হাজার টাকা কাঠায়। ৮১ লক্ষ টাকার জমি সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকায়। এ নিয়ে জমির মালিক কোর্টে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনও বিহিত হয়নি। এলাকার তৃণমূল নেতা থেকে পুরসভার আধিকারিক—সকলকেই জানিয়ে রেখেছিলেন স্বপন ঘোষ। কিন্তু যেই না তপন দাশগুপ্তর ডানা ছাঁটা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে, ওমনি বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হামলে পড়ে। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার পুরপ্রধান অরিজিতা শীল, বাঁশবেড়িয়ার তৃণমূল নেতা রাজা চট্টোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, একাধিক কাউন্সিলর শ’পাঁচেক লোক নিয়ে সে দিন স্বপন ঘোষের জমি পুনর্দখলে নামেন। হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বাগানবাড়ির তালা।

    স্থানীয়দের মতে, দেবরাজের এখন শিরে সংক্রান্তি। যাঁর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে সব করেছেন, এখন তাঁকেই কেউ পোছে না। তার উপর রয়েছে পুলিশের মামলা। তাই হয়তো পিঠ বাঁচাতেই স্ত্রীকে বিজেপি-তে পাঠিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি কর্মীদের যা মেজাজ, তাতে বীথি পাল কতদিন গেরুয়া শিবিরে টিকতে পারেন এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More