TheWall

নাগরিকত্ব আইন: মমতার বিজ্ঞাপন নিয়ে কোর্টে যাবে বিজেপি

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বাংলার সরকার যে ভাবে বিরোধিতায় নেমেছে, তা নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল বিজেপি।

শনিবার থেকে রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে টেলিভিশনে। যাতে দেখা যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা-সহ রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা রয়েছেন। এবং মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিচ্ছেন, বাংলায় এনআরসি এবং ক্যাব হবে না।

এই বিজ্ঞাপন দেখানোর পর থেকে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিন বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিলেন, ওই বিজ্ঞাপনে সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। বিজেপির বক্তব্য, ক্যাব অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সই করে দিয়েছেন। সেটি এখন আইন হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার কখনও এই ভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে আইনের বিরোধিতা করতে পারে না। দিলীপ ঘোষের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সংবিধানকে লঙ্ঘন করছেন। এটা দেশদ্রোহীতার সমান। তাই আমরা আদালতে যাব।”

বাংলায় যে অশান্তি শুরু হয়েছে তার জন্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করেছেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বসে বসে তামাশা দেখছেন। আর রাজ্যে একদল লোক হিংসা ছড়াচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে।” শনিবারই দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার রাজনীতি করছেন।” এদিনও সেই সুরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

শুধু তাই নয়, বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন দিলীপ। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এবার মানুষকে রক্ষা করতে বিজেপিও রাস্তায় নামবে। প্রশাসন নিজের কাজ না করলে বিজেপি কর্মীরা সেই কাজ করবে বলে জানান দিলীপবাবু।

নাগরিকত্ব আইন পাশ করার জন্য কলকাতায় আগামী ২৩ ডিসেম্বর অভিন্দন মছিল করবে বলে জানান দিলীপ ঘোষ। সূত্রের খবর, ওই মিছিলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে রাজ্য বিজেপির তরফে। উত্তরবঙ্গে মিছিল হবে ২৪ তারিখ।

যদিও বিজেপির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের এক মুখাপাত্র বলেন, “প্রশাসন কঠোর হাতে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলা করছে। কিন্তু অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতাদের সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্যই একের পর এক জায়গায় গণ্ডগোল ছড়াচ্ছে।”

Share.

About Author

Comments are closed.