বাংলায় কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে ভোটে লড়বে না বিজেপি, মুখ মোদীই: কৈলাস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো মিটলেই একুশের বিধানসভা ভোটের আগমনী গান বেজে উঠবে বাংলায়। সে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু এর মাঝেই যখন প্রশ্ন উঠছে, কাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে ভোটে লড়বে বিজেপি, সেই প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার ভোটে বিজেপি কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে লড়াই করবে না। জেতার পর বিজেপি পরিষদীয় দল মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেবে।

মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেই বাংলার ভোটে লড়বে বিজেপি। মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে গত ১০ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অপদার্থতা এবং অন্য দিকে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে উন্নিয়নের বিপুল কর্মকাণ্ডের কথা।”

তাঁর কথায়,  “১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বাম জমানা এবং তার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব—দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার মানুষের কোনও উন্নয়ন হয়নি। বিজেপি বিকল্প মডেল নিয়েই একুশের ভোটে লড়াইয়ে নামবে।”

রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে ভোটে লড়ার কৌশল সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা কাজে দেয়নি। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড—একাধিক রাজ্যে দেখা গিয়েছে সরকার তো উল্টেছেই উপরি কোথাও কোথাও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীরাও হেরে বসেছেন।

যদিও বাংলায় সেই সুযোগ নেই। কারণ রাজ্য সরকার গঠনের প্রশ্ন বাংলার মানুষের কাছে বিজেপির স্বাদ নতুন। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল বিরোধী ভোটকে এককাট্টা করতে বাংলায় সেই কৌশলই নিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। যদিও অনেকের মতে, বাংলায় ইতিমধ্যেই দলের মধ্যে যে ধরনের চাপা দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছে তাতে হয়তো কেন্দ্রীয়  নেতৃত্ব আঁচ করছেন, কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করলে দলের মধ্যেই অন্য একটি অংশ তাঁকে পর্যুদস্ত করতে অন্তর্ঘাত করতে পারে। সেক্ষেত্রে নবান্ন দখলের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বিজেপির। তাই মোদীর মুখকেই বাংলার মুখ করে লড়া শ্রেয়। কারণ অনেকেই মনে করছেন, বিজেপির মুখ দেখে নয়, এবারে বাংলার ভোট হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরোধিতায়।

ওই সাক্ষাৎকারে কৈলাস বলেছেন, “মনে রাখবেন, ২০১৬-র ভোটেও কিন্তু বাংলায় বিজেপির কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছিল না।” যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকে বলছেন, এসব কেবল বলার জন্য বলা। কারণ এটা সবাই জানেন যে, বাংলায় ২০১৬-র বিজেপি আর ২০২০-র বিজেপির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

২০১৬ সালে বাংলায় বিজেপি ছিল প্রান্তিক শক্তি। ঝুলিতে ছিল দুটি লোকসভার আসন। আর বিধানসভা ভোটে জুটেছিল মেরেকেটে ১২-১৪ শতাংশ ভোট। কিন্তু গত চার বছরে গঙ্গা, তিস্তা, জঙ্গলমহলের শীলাবতী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। বাম-কংগ্রেসকে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণতন করে বাংলার আকাশে বিজেপির উত্থান কার্যত ধুমকেতুর মতো। উনিশের লোকসভায় বাংলা থেকে ১৮টি আসন জিতেছে গেরুয়া শিবির। ফলে পরিস্থিতির আমূল বদল হয়েছে গত কয়েক বছরে।

তবে কৈলাস জানিয়ে দিয়েছেন, ২৩০-২৪০টি আসন তাঁদের টার্গেট। এই লক্ষ্য নিয়েই একুশের ভোটে নামবে বিজেপি। মুখ নরেন্দ্র মোদীই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More